দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীপাবলি উৎসবে মাতল জলপাইগুড়ির রাজস্থানি বণিক মহল। যেন এক টুকরো রাজস্থান উঠে এল জলপাইগুড়িতে। তাঁদের সেই অনুষ্ঠান দেখতে কলকাতা থেকেও জলপাইগুড়িতে এলেন দর্শনার্থীরা।কলাগাছে বাঁশের বাতা গেড়ে, তাতে মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে, অনন্য এক সুন্দর পরবেশ তৈরি হল উৎসবে।
রাজস্থানি বণিক মহল জলপাইগুড়ির একাধিক আধুনিক শো-রুমের মালিকদের সংগঠন। আধুনিকতা ও বৈভবের প্রতিনিধি হয়েও, তাঁদের হাতেই ধরা থাকল প্রায় ১৫০ বছরের সাবেকি ঘরানা। পরিবেশবান্ধব মাটির প্রদীপ ও কলাগাছে লাগানো কাগজের ঝালর দিয়ে সাজল জলপাইগুড়িদিন বাজার। উপচে পড়ল মানুষের ঢল। একইসঙ্গে চলল ফানুস ওড়ানো ও বাজি পোড়ানোর অনুষ্ঠান। ঠিক যেমনটা রাজস্থানে হয়।
মারোয়াড়ি সমাজে কথিত আছে, মাটির প্রদীপ ছাড়া ঘরে লক্ষ্মী আসে না। তাই কয়েকশো বছর ধরে চলে আসা সেই কথাকেই প্রাধান্য দেন তারা। মাটির প্রদীপেই সাজান সব কিছু। আর সেই আলোকসজ্জা দেখতেই দূরদূরান্ত থেকে মানুষেজন আসেন জলপাইগুড়ির দিনবাজারে।
অন্যবারের মতোই এবারেও, রবিবার সকাল থেকেই সাজো সাজো রব ছিল দিনবাজারে। বাজারজুড়ে প্রদীপ জ্বালানোর পাশাপাশি 'জলপাইগুড়ি শ্রী বৈকুন্ঠনাথ পিঞ্জরাপোল গোশালা'-র পক্ষ থেকে জলপাইগুড়ির অনুভব হোমের অনাথ মেয়েদের আনন্দ দিতে, তাদের সঙ্গে নিয়ে বাজি পোড়ানো হয়। পাশাপাশি রাজস্থানি খাবারে পেটও ভরায় তারা। মেনুতে ছিল চুরমা,পুরি সব্জি, কচৌরী, জিরা রাইস, চানা ডাল, চাটনি, ক্ষীর ইত্যাদি। ব্যবসায়ীরা উপহার বিলি করেন তাদের।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অমিত আগরওয়াল বলেন "আমাদের মধ্যে প্রচলিত আছে, যে মাটির প্রদীপ না জ্বালালে ঘরে লক্ষ্মী আসে না। দীপাবলির উৎসবের সঙ্গে আজ আমাদের লক্ষ্মী পুজোও হয়। তাই এই দিন মাটির প্রদীপ জ্বালি। আগে টুনি লাইট ছিল না। তখন থেকেই আমরা মাটির প্রদীপ জ্বালতাম। যা দেখতে বহুদূর থেকে মানুষ আসতেন। সেই ঘরানাই বজায় রাখা হয়েছে।"
গোশালা কমিটির পক্ষে বিশিষ্ট চা শিল্পপতি কৃষ্ণ কুমার কল্যাণী জানান, কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুভব হোমের অনাথ মেয়েদের সঙ্গে বাজি পুড়িয়ে তাদের আনন্দ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ট্রেডিশনাল মাড়োয়ারি ডিশ খাইয়ে শীতবস্ত্রও উপহার দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে জলপাইগুড়ি দিনবাজারের দীপাবলি অনুষ্ঠানের কথা শুনে এসেছিলেন কলকাতার সিঁথি মোড় এলাকার বাসিন্দা সুমিতা চৌধুরী। আজ তিনি এই আলোকসজ্জা দেখে অভিভূত হয়ে যান। আর এক দর্শনার্থী, জলপাইগুড়ির নতুন পাড়ার বাসিন্দা সুজাতা গোস্বামী জানান, "ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। কোনও বার মিস করি না দিনবাজারের এই অনুষ্ঠান। তাই এবারেও এলাম।"