
শেষ আপডেট: 18 September 2023 08:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডেঙ্গি জ্বর (Dengue) তিন থেকে সাত দিন থাকে, এরপর জ্বর কমতে থাকে। জ্বর কমতে শুরু করার পর পরই আসল বিপদটা শুরু হয়। এইসময়ে শরীরে সাইটোকাইন-স্টর্ম (cytokine storm) শুরু হয়ে যায়, ফলে প্রদাহ বাড়ে। নানা জটিলতার সূত্রপাত তখন থেকেই। ডেঙ্গি হেমারেজিক ফিভার বা শক সিন্ড্রোম, দুই ক্ষেত্রেই প্লেটলেট কমতে থাকে। রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ছে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, সবচেয়ে জরুরি ধাপ হল, যত দ্রুত সম্ভব রোগীর টেস্ট (Dengue Tests) করা। ডেঙ্গি হলে ফেলে না রেখে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় টেস্ট করিয়ে নেওয়া জরুরি।
ডক্টর অমিতাভ নন্দী বলছেন, একটি ভুল ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে, যে তিন দিন জ্বর হলে তার পরে টেস্ট করান ডেঙ্গির। এর কোনও কারণ নেই। বরং প্রশ্ন ওঠে, তিন দিন কেন? দু’দিন বা পাঁচ দিন নয় কেন? এই তিন দিনের ভিত্তি কী? জ্বরের প্রথম দিনেই টেস্ট করে ফেলা অত্যন্ত জরুরি। ডেঙ্গি হলে সেই টেস্টে প্রথম দিনেই পজিটিভ আসবে। ফলে সম্ভাব্য ডেঙ্গি জ্বরের রোগীর ক্ষেত্রে তিন দিন অপেক্ষা করা মানে, সেই তিন দিন ধরে তাঁর শরীর থেকে আরও মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়বে ডেঙ্গি।
জ্বর থাকবে ২-৭ দিন
তীব্র মাথা যন্ত্রণা
গায়ে হাত-পায়ে ব্যথা
প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা
হেমারেজিক ফিভার হলে শরীরের নানা জায়গা থেকে রক্ত বের হবে।
ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম হলে শরীরে জলের পরিমাণ কমে যায়। পালস রেট বাড়ে, রক্তচাপও কমে যায়।
তিন ধরনের উপসর্গভিত্তিক ডেঙ্গি এই মুহূর্তে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে (Dengue Tests)। এক, সিম্পল ও আনকম্প্লিকেটেড ডেঙ্গি। দুই, হেমারেজিক ডেঙ্গি, অর্থাৎ ডেঙ্গি জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্তক্ষরণ, যা প্রাণঘাতী। এবং তিন, ডেঙ্গি শক সিনড্রোম অর্থাৎ আচমকাই রোগীর ব্লাড প্রেশার নেমে যাওয়া, পাল্স বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মারা যাওয়া।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গি হলেই প্রচুর জল নয়, নয় প্লেটলেট নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তি, সচেতনতার সঙ্গে চায় সতর্কতাও
ডাক্তারবাবুর কথায়, ডেঙ্গি জ্বর থাকা অবস্থায় যতটা না জটিল, জ্বর ছাড়ার সময়টা আরও বেশি জটিল। ৫-৭ দিন খুব সতর্ক থাকা উচিত। এই সময়েই বেশি সমস্যা তৈরি হয় শরীরে। ফলে ডেঙ্গির জ্বর ছাড়াটাই স্বস্তির কারণ নয়। এই সময়ে কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট করাতে হবে রোজ। সেই মতো আইসোলেশনে রাখতে হবে রোগীকে, তা বাড়িতে হোক বা হাসপাতালে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গি ভাইরাসের প্রকারভেদ নয়, উপসর্গই ঠিক করবে চিকিৎসা পদ্ধতি, সচেতনতাই বলবে শেষ কথা
ডেঙ্গি রোগীকে প্রচুর পরিমাণে ফল, ফ্রুটজ্যুস খাওয়ানোও খুবই ক্ষতিকর। এত বেশি অ্যাসিডিক বস্তু এই সময়ে শরীরে প্রবেশ করানো ক্ষতিকর। ডেঙ্গি রোগীর শরীরের বাইরে ও ভিতরে প্রচুর ব়্যাশ বেরোয়। সেই ক্ষেত্রে এই অ্যাসিড খুব ক্ষতি করে। রক্তের শিরা পাতলা হয়ে যায় বলে, তা যে কোনও সময় ফেটেও যেতে পারে। অ্যাসিডের কারণেও তা হতে পারে। আর বাজারচলতি জ্যুসের আর্টিফিসিয়াল উপাদানও খুবই ক্ষতিকর। এর চেয়ে প্রোটিনজাতীয় খাবার, কার্বোহাইড্রেট অনেক বেশি জরুরি। ফলমূলে যে ফাইবার বা অ্যাসিড থাকে, তা ডেঙ্গি থেকে রিকভারি করতে কোনও সাহায্য করে না।