দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর বাংলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে বুলেটিন প্রকাশ করল স্বাস্থ্য দফতর। ১ এবং ২ মে-র জন্য দুটি পৃথক বুলেটিন প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই দু’দিনে রাজ্যে নতুন আরও ১২৭ জন মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এই দু’দিনে কোভিডে মারা গিয়েছেন ১৫ জন। অর্থাৎ আজ ২ মে পর্যন্ত কোভিড আক্রান্ত হয়ে রাজ্যে মোট ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, স্বাস্থ্য দফতর যে বুলেটিন এদিন প্রকাশ করেছে তার ফরম্যাট ফের বদল করা হয়েছে। বিতর্কের মুখে পড়ে এই নিয়ে গত দেড় মাসের মধ্যে কম করে দু’বার বুলেটিনের ফরম্যাট বদল করা হল। গোড়ায় জানানো হচ্ছিল, রাজ্যে মোট কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন কত জন। পরে সেই ফরম্যাট বদল করে মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা তাঁর প্রেস কনফারেন্সে জানাচ্ছিলেন, সেদিন রাজ্যে কত জনের শরীরে কোভিড অ্যাকটিভ রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিনেও তা জানানো হচ্ছিল। কিন্তু শনিবার রাত ৯ নাগাদ যে বুলেটিন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দফতর তাতে রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের উল্লেখ তো নেই, সেই সঙ্গে এও বলা হয়নি যে এই মুহূর্তে কতজন কোভিড অ্যাকটিভ রোগী রয়েছেন।
সে যাক। রাজ্য সরকার যে ১ মে-র জন্য যে বুলেটিন ঘোষণা করেছে তাতে বলা হয়েছে, সেদিন ৫৭টি ‘নতুন করোনা পজিটিভ কেস’ পাওয়া গিয়েছে। ৩০ এপ্রিল থেকে ১ মে-র মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫ জন। আর কোভিড আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
১ মে-র বুলেটিন
দ্বিতীয় অর্থাৎ ২ মে-র বুলেটিন অনুযায়ী আজ শনিবার করোনাভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে রাজ্যের আরও ৭০ জন মানুষের শরীরে। শনিবার কোভিডে মারা গিয়েছেন ৭ জন রোগী। তবে ইতিবাচক যে এদিন আরও ৪৫ জন কোভিড আক্রান্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বুলেটিনে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। তা হল, রাজ্যে কোভিড টেস্টের সংখ্যা এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। গত সপ্তাহে দিনে গড়ে কম বেশি ৯০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী ৩০ এপ্রিল রাজ্যে ২০৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আর শুক্রবার ১ মে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৪১০ জনের। এবং স্বাস্থ্য দফতরের হিসাবে অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত রাজ্যে ২০,৯৭৬ জন মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বুলেটিনেই বলা হয়েছে, রাজ্যে এখন আইসিএমআর-এর অনুমোদিত ল্যাব রয়েছে ১৬ টি। এতোগুলি ল্যাবে পরীক্ষা হওয়ার কারণেই টেস্টের সংখ্যা বেড়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন।
২ মে-র বুলেটিন
তবে স্বাস্থ্য ভবনের এই বুলেটিন নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ করেছেন অনেকেই। লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “কোনও সমালোচনাই এই সরকারের গায়ে লাগে না। এঁদের প্রশাসনিক ব্যাকরণ বলে কিছু নেই। কী করে সত্য গোপন করবে সেটাই ধ্যান ও জ্ঞান হয়ে গিয়েছে। এই বুলেটিনেও বলা হল না যে গোটা বাংলায় এখনও পর্যন্ত কত জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সেটা জানা গেলে মানুষের বিভ্রান্তি কমত। মানুষ হয়তো আরও সচেতন হতেন”।
বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, "একবার যদি তথ্য গোপন করা শুরু হলে মুখ্যমন্ত্রী যতই চেষ্টা করুন অঙ্ক মেলাতে পারবেন না। তাতে ৫০ ঘণ্টা পর বুলেটিন দিক আর পাঁচদিন পর দিক। মোট কত আক্রান্ত বলছিলেন না মাননীয়া। কিন্তু ঢাকবেন কী দিয়ে! স্বাস্থ্য সচিবের চিঠি তে বেরিয়ে পড়েছে। আজও বুলেটিনে মোট আক্রান্তের উল্লেখ নেই। আক্রান্ত আর মৃত্যুর যা অনুপাত দাঁড়াচ্ছে তাতে বাংলা রেকর্ড গড়ার মুখে। এখনও সময় আছে সব তথ্য স্বচ্ছ ভাবে প্রকাশ করুক সরকার।"
সরকারের কটাক্ষ করে বিরোধীদের অনেকের বক্তব্য, স্বাস্থ্য দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির চিঠিতে সত্য ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে সরকার চেষ্টা করেছে সেটা কী ভাবে ধামাচাপা দেওয়া যায়। সেদিক থেকে এই বুলেটিন বেশ ‘ইনোভেটিভ!’