দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধান। তার মধ্যে হাওড়া ও হুগলিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যে ভাবে লাফিয়ে বাড়ল, তাতে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রশাসনের মধ্যে।
হাওড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ জন। শনিবারের বুলেটিনে হাওড়ার মোট আক্রান্ত ছিল ৩৭০ জন। রবিবার সেটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৭তে। হুগলিতে ৪৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। শনিবার ছিল ৭১। রবিবার স্বাস্থ্য ভবনের বুলেটিন জানিয়েছে সেটা বেড়ে হয়েছে ১২০।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই হাওড়া রেড জোনে রয়েছে। যদিও তা কেন্দ্রীয় সরকারের তালিকা অনুযায়ী। কোন জেলা কোন রঙে রয়েছে ইদানিং তা জানায় না নবান্ন। তবে শুক্রবার ও শনিবারের বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী হাওড়ার বৃদ্ধি তেমন চোখে লাগার মতো ছিল না। কিন্তু এদিন একধাক্কায় ৪৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন হাওড়ায়। পাশাপশি এই জেলায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যাটাও অনেক। গত ২৪ ঘণ্টায় এই জেলায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩১ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৬০ জন। হাওড়ায় মোট ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে যাঁদের করোনা পজিটিভ ছিল। স্বাস্থ্য ভবন জানিয়েছে এর মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে শুধু করোনার জন্য। বাকিরা কোমর্বিডিটি।
প্রশাসনের অনেকের মতে হাওড়ার সংক্রমণ নিয়ে বাড়তি উদ্বেগের অন্যতম কারণ গ্রামীণ এলাকা। এতদিন পর্যন্ত মূলত হাওড়ার শহর এলাকাতেই সংক্রমণ সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু রবিবারই জানা গিয়েছে উদয়নারায়ণপুর এবং উলুবেড়িয়াতেও সংক্রমণ ছড়িয়েছে। উদয়নারায়ণপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুর পর রিপোর্ট এসেছে পজিটিভ। চিকিৎসক, নার্স, গ্রামবাসী মিলিয়ে ৪০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালের এক গ্রুপ ডি কর্মীর কোভিড পজিটিভ ধরা পড়েছে।
তা ছাড়াও হুগলির সংক্রমণ আচমকা বাড়তে শুরু করেছে গত তিন দিন ধরে। ৮ মে হুগলিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৪। গতকাল তা বেড়ে হয় ৭১। আর রবিবার তা পৌঁছে গিয়েছে ১২০-তে।
হুগলির আক্রান্তদের অর্ধেকের বেশি চন্দননগরের। ফরাসডাঙাই এখন হুগলির করোনা সংক্রমণের এপিসেন্টার। যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও তীব্র উদ্বেগ রয়েছে। কারণ চন্দননগরের যে এলাকা থেকে একের পর এক সংক্রামিতের খোঁজ মিলছে সেই উর্দিবাজার এলাকা অত্যন্ত ঘনজনবসতিপূর্ণ। যার ফলে আরও সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে। হুগলিতে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৮ জন। করোনা সংক্রমণ ছিল এমন চারজনের মৃত্যু হয়েছে এই জেলায়।
আরও একটি বিষয় ভাবাচ্ছে প্রশাসনকে। তা হল জুটমিল। গত বৃহস্পতিবার থেকে তেলিনিপাড়ার শ্যামনগর নর্থ মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে। গতকাল এবং আজ চালু হয়েছে ডালহৌসি এবং অ্যাঙ্গাস জুটমিল। উর্দিবাজার এলাকার অনেকেই চন্দননগরের গোন্দলপাড়া জুটমিলে কাজ করতেন। কিন্তু ওই মিলটি বেশ কয়েক মাস ধরে বন্ধ। ফলে অনেকেই জীবিকার টানে অন্য মিলগুলিতে ঠিকাদারের অধীনে কাজ করেন। এখন তাঁরাও যদি কাজে যোগ দেন তাহলে বড়সড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের।
এখন কী ভাবে ওই এলাকাকে ঘিরে রেখে বাড়ি থেকে বেরোনোর আটকানো যায় সেটাই এখন চ্যালেঞ্জ চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের।