দ্য ওয়াল ব্যুরো: তখন সবে সবে শুরু হয়েছে করোনা পর্ব, ভাইরাসের ভয়ে ত্রস্ত গোটা দেশ। সংক্রমণ রুখতে গত বছরের ২২ মার্চ দেশ জুড়ে জনতা কার্ফুর ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু পৃথিবী উল্টে গেলেও চা-এর নেশা টলানো যায় না, প্রমাণ করেছিলেন তিনি। তিনি মৃদুল দেব। সকলের চেনা 'চা কাকু'।
জনতা কার্ফুর মধ্যেও চা খেতে বেরোনো নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়লে অম্লান বদনে মৃদুল বাবু বলেছিলেন 'আমরা কি চা খাবো না, খাবো না আমরা চা?'
নেট মাধ্যমে এই সরল মন্তব্য নিয়ে বয়ে যায় রসিকতার ঝড়। তীব্র সমালোচনা, বিদ্রূপের মুখে পড়েন পেশায় শ্রমিক মৃদুল দেব। অজস্র মিম বানানো হয় তাঁকে নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় 'চা কাকু' হিসেবে বিখ্যাত আর কুখ্যাত দুইই হয়েছিলেন তিনি।
সেই সকলের চেনা চা কাকু্র নাম এবার সার্থক হল। নতুন চায়ের দোকান খুললেন তিনি। ফেসবুকে নিজেই জানালেন সে কথা। এদিন মৃদুল দেব ফেসবুকে নতুন দোকানের ছবি দিয়ে লিখেছেন, 'আমার নতুন দোকান, ছোট করে শুরু করলাম। যারা যারা আমার দোকানের চা খেতে চাও চলে এসো।'
'চা খাবো না' মিমের কয়েকদিন পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা যায় লকডাউনের মধ্যে মাটি কাটার কাজ করছেন তিনি। সামান্য রোজগারে সংসার প্রায় চলেই না। চা কাকুর এই দশা দেখে অনেকেই তারপর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁর দিকে। দক্ষিণ কলকাতার শ্রী কলোনিতে বাড়ি তাঁর। এমনকি যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী তাঁর সন্তানের পড়াশোনার দায়িত্বও নিয়েছিলেন।
সেই থেকেই পাল্টে গিয়েছিল মৃদুল দেবের জীবন। গত ২ জুন ভ্যাকসিন নিয়েছেন চা কাকু। কোভিডের দ্বিতীয় পর্বে কোভিড যোদ্ধা হিসেবেও কাজ করতে দেখা গেছে তাঁকে।