দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিনয় তামাং। গোর্খাল্যান্ডের স্বপ্ন নিয়ে দার্জিলিং লোকসভা থেকে তিনবার বিজেপিকে জেতানোর পরও সে নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি কেন্দ্র। অন্যদিকে অসমের ঘটনা থেকেই পরিষ্কার, এখন বিজেপি চাইছে গোর্খাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখতে। শনিবার এভাবেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন বিমল গুরুং পরবর্তী পাহাড়ের নেতা।
এদিন জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটা ব্লকের সিপচুতে বলিদান দিবস কর্মসূচি ছিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার। সেই অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিনয় তামাং বলেন, “পাহাড়ের মানুষ গোর্খাল্যান্ডের স্বপ্ন নিয়ে তিন-তিনবার বিজেপির সাংসদ পাঠিয়েছে। যশবন্ত সিং, সুরেন্দ্র সিং আলুওয়ালিয়া থেকে আজকের রাজু সিং বিস্ত—কিন্তু কেউই পাহাড়ের মানুষের স্বপ্ন পূরণ করেননি।” একই সঙ্গে পাহাড়ের এই গোর্খা নেতা বলেন, “অসমে এনআরসি করে যে ১৯ লক্ষ মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে একলক্ষ গোর্খা আছেন। তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে কেন্দ্র।” তাঁর কথায়, “গোর্খাল্যান্ড তো দূরের কথা এখন গোর্খারা দেশে থাকতে পারবে কিনা তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।”
২০১১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জিজেএম নেতা বিমল গুরুং-এর নেতৃত্বে কয়েক হাজার মানুষের পদযাত্রা পাহাড় থেকে ডুয়ার্সের দিকে নেমে আসছিল। কুমাইতে একবার আটকানোর চেষ্টা করে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য প্রশাসন। কিন্তু লাভ হয়নি। পুলিশের বাধা ভেঙে নীচের দিকে নামতে থাকে বিমল গুরুং-এর মিছিল। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মিছিলের পাল্টা ডুয়ার্সের সিপচুতে জমায়েত করে আদিবাসী বিকাশ পরিষদ। গুরুংদের মিছিল সিপচুতে পৌঁছতেই শুরু হয় গুলি-বোমা। মৃত্যু হয় তিন জিজেএম কর্মীর। তারপর থেকে প্রতিবছর এই দিনটিকে বলিদান দিবস হিসেবে পালন করে তারা।
এদিন বিনয় তামাং রাজ্য সরকারের প্রশংসা করে বলেন, যে ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার বিধানসভায় বিল পাশ করে বলেছেন এ রাজ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, এনপিআর ও এনআরসি বাস্তবায়িত হবে না, তাতে পাহাড়ের সাধারণ নাগরিকরা বুকে বল পেয়েছেন।