দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমল গুরুংয়ের চ্যাপটার ক্লোজড। গোটা উত্তরবঙ্গ এখন খুব খুশি। নবান্নতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে গোর্খা ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই দাবি করলেন বিনয় তামাং। তিনি জানান, মমতার সঙ্গে তাঁর বৈঠক যথেষ্ট ইতিবাচক হয়েছে।
তবে বিমল গুরুংয়ের প্রসঙ্গ অবশ্যম্ভাবী ভাবেই উঠেছে এদিন, তার প্রতিক্রিয়ায় তামাং বলেন, "বিমল গুরুং নিয়ে কোনও কথা হয়নি। কে বিমল গুরুং, ওকে এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কেন?" তাঁর দাবি, পাহাড়ে শান্তি রক্ষার বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে, জিটিএ-র কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিমল গুরুংয়ের চ্যাপ্টার পুরোপুরি শেষ।
তবে চ্যাপ্টার ক্লোজড বললেও তার পাশাপাশি বিনয় তামাং উল্লেখ করেন, ইউএপিএ আইনে মামলা রয়েছে গুরুংয়ের বিরুদ্ধে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। ১৬৬ মামলা আছে তাঁর বিরুদ্ধে। "আমরা রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনও ভাবেই বিমল গুরুংকে অথবা রোশন গিরির গ্রুপের কাউকে জিটিএ-তে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নই। কোনও সমঝোতার প্রশ্ন নেই। বিমল গুরুং নিয়ে এত প্রশ্নের মুখে আমি ক্লান্ত।"-- বলেন বিনয় তামাং।
তিনি জানান, পাহাড়ে যত মিছিল হয়েছে, তাতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে পাহাড় কী চায়। কয়েকদিন আগেই বিনয় তামাংদের যুব মোর্চা বিরাট মিছিল করেছিল পাহাড়ে। সোনাদার সেই মিছিলের মূল সুর একটাই-- বিমল গুরুংয়ের বিরোধিতা। তারপর শনিবার কার্শিয়াঙে একই রকম মিছিল করে বিনয় তামাং, অনিত থাপাদের অনুগামীরা। আজ বিনয় তামাং বললেন, "আমরা চাই পাহাড়ে শান্তি বজায় থাকুক, পর্যটকরা আসুন আরও বেশি। বিমল গুরুং আমাদের সিলেবাসে নেই।"
বিমল গুরুংয়ের আত্মপ্রকাশের পরে এই প্রথম আজ মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন বিনয় তামাং এবং অনিত থাপা। গতকাল, সোমবার কলকাতায় নেমেই দুই গোর্খা নেতা জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিমল গুরুং তাঁদের সিলেবাসে নেই। তাঁদের একটাই 'ফোকাস', পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখা।
বিনয় তামাং সাফ জানিয়ে দেন, গত তিন বছর ধরে পাহাড়ে শান্তি বজায় রেখেছেন তাঁরা। বিমল গুরুং যদি পাহাড়ে যান তাহলে অশান্তি বাড়বে। পাহাড়, সমতল কোনও জায়গার মানুষই চান না বিমল গুরুংকে। সেই সঙ্গে বিনয় তামাংয়ের মন্তব্য, বিমল গুরুং হোন আর যেই হোন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।
বলাই বাহুল্য, তামাং যতই বিমল গুরুংকে সিলেবাস থেকে বাদ দিয়ে চ্যাপটার ক্লোজড করুন না কেন, পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জল্পনা রয়েছেই। পর্যবেক্ষকদের মতে, গুরুংয়ের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে ভারসাম্য রক্ষার বার্তা দিতেই বিনয়-,অনিতদের ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু নবান্নে সেই বার্তা দিলেও পাহাড়ে তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করছেন।