এ যেন এক 'রূপকথা'র উৎসব, বৈষম্য ভেঙে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে বারুইপুর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বছর পরে উমা আসবে বাপের বাড়ি। শরতের নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ আর সবুজ খেতের উপর মাথা দোলানো কাশ ফুলের দল স্বাগত জানাবে তাকে। মহালয়ার ভোরে সেই বার্তা ভেসে এসেছে ইতিমধ্যেই। বাঁধভাঙা আনন্দের জোয়ারে মেতে উঠেছে বাঙালি
শেষ আপডেট: 30 September 2019 07:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বছর পরে উমা আসবে বাপের বাড়ি। শরতের নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ আর সবুজ খেতের উপর মাথা দোলানো কাশ ফুলের দল স্বাগত জানাবে তাকে। মহালয়ার ভোরে সেই বার্তা ভেসে এসেছে ইতিমধ্যেই। বাঁধভাঙা আনন্দের জোয়ারে মেতে উঠেছে বাঙালি । মণ্ডপে মণ্ডপে আলোর রোশনাই, নতুন নতুন পোশাকে অনাবিল আনন্দে সামিল আবালবৃদ্ধবনিতা।
কিন্তু এ সবের আড়ালে তারা থেকে যায়, যাদের কথা কেউ মনে করে না। এই সমাজে তারা ব্রাত্য। কেউ খোঁজ নেয় না ইটভাঁটার মধ্যে বড় হওয়া কচিকাঁচাদের । খোঁজ নেয় না স্টেশনে, বাজারে, খোলা আকাশের নীচে রাত কাটানো পথশিশুদের আর প্রত্যন্ত গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের। সমাজের বুকে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা এই মানুষগুলোর জন্য আজ থেকে দশ বছর আগে তাই এক নতুন ভাবনার জন্ম হয়েছিল। রূপকথা। কয়েক বছর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের গুটিকয় শিক্ষিত যুবক তিল তিল করে গড়ে তোলে রূপকথা নামের এই সংগঠন।

বছরের বিশেষ বিশেষ সময় যে ভাবেই হোক বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর শপথ নেয় তারা। সেই থেকেই শুরু পথচলা। বারুইপুরের রূপকথার সদস্যরা প্রতি বছরের মত এ বছরও পথশিশু, দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের পুজোয় নতুন পোশাক দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন। মহালয়ার দিন ভোর থেকে শিয়ালদহ স্টেশনে রাত কাটানো অসহায় শিশু ও দরিদ্র মানুষদের বস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শুরু হয়। চলবে গোটা সপ্তাহ, সপ্তমী পর্যন্ত।
বিভিন্ন রেলস্টেশন, ইটভাঁটা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের অসহায় মানুষের কাছে এই ভাবেই পৌঁছতে চায় রূপকথা। বারুইপুরের হাটা গ্রামের দরিদ্র পরিবারের প্রায় একশো শিশুকে নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয় রবিবার। এই গ্রামে মূলত গরিব ভাগচাষি মানুষের বাস। নতুন জামাকাপড় পেয়ে বাচ্চাদের নিষ্পাপ মুখে ফুটে ওঠে অনাবিল হাসি।

সোমবার সকাল থেকে দমদম স্টেশনে ও বারুইপুরের একটি ইটভাঁটাতে ছোট ছোট শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন পোশাক। রূপকথার এক সদস্য বিশ্বজিৎ পাল জানান, তাঁদের লক্ষ্য সুন্দর ও সচেতন সমাজ গঠন। যেখানে থাকবে বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা। সমাজের প্রতিটি মানুষ প্রতিটি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে।
শুধু বিতরণ নয়, মানুষের মধ্যে সেই জাগরণ আনতেই এই কর্মযজ্ঞে সামিল হয়েছে রূপকথা।
