দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৩৩ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা পর্যন্ত বেড়েছিল হাওয়ার বেগ। এক বেলায় বৃষ্টির পরিমাণ ২৫০ মিলিলিটার। ল্যান্ডফলের পরে শহর কলকাতার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময়ে এতটাই বিধ্বংসী ছিল সুপার সাইক্লোন উমফান! এর পরেই শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৃত্যুর খবর আসতে শুরু করেছে।
আজ, বৃহস্পতিবার সকালে ঝড়ের তাণ্ডব থামার পরে শুধু বেহালা পর্ণশ্রী এলাকা থেকেই তিন-তিনটি মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। জানা গেছে, এলাকার জয়রামপুর পোস্ট অফিসের সামনে এক ব্যক্তি মাথায় হঠাৎই ভেঙে পড়ে লাইটপোস্ট। পিন্টু বলে পরিচিত সে ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। পর্ণশ্রী থানা এলাকাতেই লেকের ধারে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, তিনিও ঝড়ের বলি বলেই জানা গেছে। আরও একটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে পর্ণশ্রীর কালীমাতা কলোনিতে। তাঁদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
বুধবারই ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে কলকাতায় অন্তত চার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। কলকাতায় তালতলা এলাকায় এক ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন। তা ছাড়া রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকায় গাছ পড়ে মৃত্যু হয়েছে মা ও ছেলের। ফুলবাগানেও বিদ্যুৎস্পৃষ্টি হয়ে মারা গিয়েছেন এক যুবক।
পাশাপাশি আজ সকালে জানা গেছে, হাওড়ার ব্যাঁটরা থানার অন্তর্গত চ্যাটার্জী পাড়ায় বৃষ্টির জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে দুই বাইকআরোহীর। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে জমা জলে পড়ে ছিল, তাতেই ঘটেছে বিপত্তি। একই ভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্টি হয়ে মারা গেছেন বেলুড়ের হারাধর মুখার্জী রোডের ৩০ বছরের যুবক বিকাশ সিং।
হাওড়ার এক ১৩ বছরের কিশোরী লক্ষ্মী সাউ গতকাল বিকেলেই মারা গেছিল দেওয়াল চাপা পড়ে। মিনাখাঁর ৫৬ বছরের প্রৌঢ়া নুরজাহান বেওয়া মারা গিয়েছিলেন গাছ ভেঙে পড়ে।
পুলিশ সূত্রের খবর, শুধু শহর কলকাতাতেই ঝড়ের তাণ্ডবে মারা গেছেন অন্তত ১৬ জন। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা ছাড়াও চুঁচুড়া, পূর্ব বর্ধমান থেকে এসেছে একাধিক মৃত্যুর খবর।