
শেষ আপডেট: 3 June 2023 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কদিন আগেই রেলের পরিকাঠামো নির্মাণ নিয়ে বড় বড় কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যার মোদ্দা কথা ছিল, ২০১৪ সালের আগে রেলের পরিকাঠামো বলে কিছু বস্তু ছিল না। যা হওয়ার ২০১৪ সালের পরই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলার প্রায় পর পরই করমণ্ডল এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা তিনশ পার করতে চলেছে। এহেন পরিস্থিতিতে শনিবার মোদী সরকারকে তুলোধনা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রেলমন্ত্রীর পদ থেকে অশ্বিনী বৈষ্ণোর পদত্যাগের দাবিও করেছেন তিনি।
শনিবার তৃণমূলের নবজোয়ার কর্মসূচি ছিল। রেলে দুর্ঘটনার জেরে এদিনের কর্মসূচি বাতিল করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছেন।
পরে বিকেলে অভিষেক বলেন, “গত দু'দশকে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেনি। করমণ্ডল এক্সপ্রেস যেন মৃত্যুমণ্ডল হয়ে গিয়েছে। কত নিরাপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর দায় কে নেবে?” এখানেই থামেননি অভিষেক। তিনি বলেন, বেহিসাবি লকডাউনে যে এত লোক মারা গেলেন, নোটবন্দির লাইনে দাঁড়িয়ে যে ১৪০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বা করমণ্ডল এক্সপ্রেসে যে প্রায় তিনশ মানুষ মারা গিয়েছেন, তার রক্ত কার হাতে লেগে রয়েছে? প্রধানমন্ত্রী দায় নেবেন না?
রেল দুর্ঘটনা এড়াতে অ্যান্টি কলিশন ডিভাইসের কথা বহুদিন ধরে চলছে। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানা থেকে তা আলোচনায় রয়েছে। এদিন অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস বা নরেন্দ্র মোদীর কবচ কেন ছিল না ট্রেনে? মানুষের জীবনের দাম নেই?
অভিষেকের কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ বা জেপি নাড্ডারা কেউ ট্রেনে চড়েন না। স্মৃতি ইরানি বা ধর্মেন্দ্র প্রধানরা কখনও ট্রেনে চেপে কলকাতায় আসেননি। বিজেপি নেতারা ট্রেনে চড়েন না বলে কি মানুষের জীবনের দাম দিচ্ছেন না!
নরেন্দ্র মোদীর ডিজিটাল ইন্ডিয়া বা বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালু করার মতো সিদ্ধান্তগুলি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, 'বন্দে ভারতের কী দুর্দশা সকলেই দেখেছেন। ঝড়ে বনেট ভেঙে যাচ্ছে। সেই বন্দে ভারত তৈরি করে যাঁরা উন্নতির দাবি করছেন তার ছোট্ট নিদর্শন আমরা গতকাল দেখলাম।'
গত শনিবার দু’জোড়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেস শুরু হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানেই রেলে সাফল্য গাঁথা শুনিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অভিষেক এদিন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “তাড়াহুড়ো করে নিজের ভোটের স্বার্থ দেখতে গিয়ে দু'বছরের কাজ ছ'মাসে শেষ করবেন না। রাজনীতি হবে, কিন্তু রাজনীতি করতে গিয়ে মানুষের প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না। আশাকরি করমণ্ডল এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনার থেকে শিক্ষা নেবেন।'