দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : নিষেধাজ্ঞা উঠতেই গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন মৎস্যজীবীরা। রুপোলি শস্যের খোঁজে। কিন্তু প্রাথমিক সেই অন্বেষণ একরকম মাঠেই মারা গেল। খালি হাতেই ফিরে এলেন তাঁরা। তাই খাতায় কলমে বর্ষা এলেও বাঙালির ইলিশ বিলাস আপাতত শিকেয়।
মাছ ধরায় তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় ১৫ জুন। সে দিনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ট্রলার পাড়ি দেয় গভীর সমুদ্রে। প্রতি বছরেই এ সময় মূলত ইলিশের খোঁজেই যান মৎস্যজীবীরা। এ বারও গিয়েছিলেন। কিন্তু সপ্তাহ ঘোরার আগেই ফিরে আসতে শুরু করেছে ট্রলারগুলি। গভীর সমুদ্রে নিম্নচাপ ও প্রবল ঝোড়ো হাওয়া থাকায় ট্রলারগুলিকে ফিরতে হয় বলে জানা গেছে। একেকবার সমুদ্রে যেতে ট্রলারপিছু এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা খরচ। মৎস্যজীবীরা জানাচ্ছেন, অন্য মাছে লাভ হয় না তেমন। ইলিশ সব ক্ষতি পুষিয়ে দেয়। এ বার ইলিশের ঝাঁক পর্যন্ত পৌঁছতে না পারায় মরসুমে প্রথম যাত্রাতেই বিপুল ক্ষতির মুখে তাঁরা।
কাকদ্বীপ ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজয় মাইতি জানান, "এখন ভরা কোটাল থাকায় সমুদ্রে জাল টানতে অসুবিধা হচ্ছে। ইলিশের ঝাঁক তাই অধরাই থেকে যাচ্ছে। এছাড়াও সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়াতেও সমস্যায় পড়ছেন মৎস্যজীবীরা। আর সে কারণেই ট্রলারগুলি আবারও উপকূলে ফিরে আসছে।"
শহরের এক মাছ ব্যবসায়ী কৃষ্ণ মাঝি জানান, মাছ বাজার ইলিশশূন্য বললে কিছু বেশি বলা হবে না। কারণ সাধের ইলিশের সত্যিই দেখা নেই। তিনি বলেন, “এখন বাজারে যে ইলিশমাছ পাওয়া যাচ্ছে তার বেশিটাই স্টোরে রাখা পুরনো ইলিশ। এ ছাড়া মায়ানমার থেকে কিছু ইলিশ মাছ আসছে, যা দেখতে ভালো হলেও জিভের সুখ হবে না। তাও দাম ঘোরাফেরা করছে কেজিপ্রতি ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকার মধ্যে। ইলিশ বিলাসী অনেকে সেই মাছ কিনে দুধের সাধ ঘোলে মেটাচ্ছেন।”
দক্ষিণ ২৪ পরগনার নগেন্দ্রবাজার আড়তের সহ সভাপতি দুলাল দাস বলেন, “দেরিতে বর্ষা আসাই এ বারের ইলিশের খরার প্রধান কারণ। ১০০ টন মতো মাছ এসেছে এ বার। অন্য মরসুমের থেকে অনেক কম। তাও খুবই ছোট সাইজের।”
আজ সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। ইলশেগুড়ি বৃষ্টিও শুরু হয়ে গেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে খাতায় কলমে দক্ষিণবঙ্গে এসে গেছে বর্ষা। তাই আশায় আশায় আজ কালের মধ্যেই আবার সমুদ্রে পাড়ি দেবেন মৎস্যজীবীরা। যদি দেখা মেলে ইলিশের ঝাঁকের।