মৃন্ময় পান, বাঁকুড়াঃ ৪২ এ ৪২ এর প্রচারে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু থমকে গেলেন যুবরাজ। তাঁর সামনেই দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মুখোশ খুলে যেতেই কিছুটা হতবাক হয়ে যান তিনি। সভাস্থলের হইচই সামলাতে পুলিশ ছুটে এলেও দমাতে পারেনি কাউকে। অবশেষে মাইক হাতে তাঁকেই নামতে হল ড্যামেজ কন্ট্রোলে।
সোমবার জেলার রাধানগরে সভা করেন যুব তৃণমূলের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্যত ২০১৯ কে সামনে রেখে এক রকম প্রচার সভাই ছিল এটি। আরও অনেকের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুরের প্রাক্তন ও বর্তমান বিধায়ক। মঞ্চে অভিষেকের উপস্থিতিতেই বক্তব্য রাখতে উঠে বিষ্ণুপুরের বর্তমান বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্য্য বলেন, ’’ভোটের পর আমার আগের বিধায়ককে এলাকা ছাড়তে হয়েছিল। পরে তৃনমূলের কর্মীরা ভরসা যোগালে তিন চার মাস পর তিনি বিষ্ণুপুরে ফিরেছিলেন।’’
এই কথা বলার পরই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে সভাস্থলে। প্রাক্তন বিধায়ক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্টরা উঠে দাঁডিয়ে হইচই শুরু করে দেয়। দুই পক্ষই বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। অবস্থা্ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় অভিষেককে। অবশেষে দুই পক্ষকে শান্ত করেন তিনি। গত বিধানসভা ভোটে বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে হেরে গিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদবাবু। কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন তুষারবাবু। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। আদি ও নব্যর সেই লড়াই এ দিন অভিষেকের সামনেই ফের প্রকাশ্যে আসায় বিরক্ত স্থানীয় নেতা কর্মীরা।
এ দিন বক্তব্য রাখতে উঠে বিজেপিকেই নিশানা করেন তৃণমূলের যুবরাজ। কলকাতার সভায় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি। বলেন, ’’আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুতে এখন রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। এই পর্বের শেষেই বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের বিরুদ্ধে কলকাতার জনসভায় বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য মামলা করা হবে।’’ কেন্দ্রের 'মা গঙ্গে' প্রকল্প প্রসঙ্গে বলেন, ’’এই প্রকল্পে দিল্লির সরকার চার হাজার কোটি টাকা দূর্নীতি করেছে। আর এ রাজ্যে ইমাম ভাতা, মোজাম্মেল ভাতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আপনাদের জেনে রাখা উচিৎ এই সমস্ত টাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি তহবিল থেকে নয়, ওয়াকফ্ তহবিল থেকে দেন।’’ ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হটিয়ে দিল্লি দখলের ডাক দেন তিনি।
বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে বিষ্ণুপুরের এই সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, তালডাংড়ার বিধায়ক সমীর চক্রবর্তী, দলের জেলা সভাপতি অরূপ খাঁ, 'বিদায়ী' জেলা সভাপতি অরূপ চক্রবর্ত্তী সহ দলের অন্য নেতারা।