দ্য ওয়াল ব্যুরো : বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনায় অভিযুক্ত ৩২ জনকেই বুধবার নির্দোষ বলে রায় দিয়েছে বিশেষ সিবিআই আদালত। এরপরে বিজেপির নেতা ও সমর্থকেরা যেমন রায়কে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন, তেমন বিদ্রুপও করেছেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে আছেন রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী ও অভিনেত্রীরা।
সমাজকর্মী তুষার গান্ধী বাবরি মসজিদ ভাঙার আগে বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর রথযাত্রার কথা উল্লেখ করে টুইট করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, রথযাত্রা ছিল একটা ট্যুরিজম প্রজেক্ট। ভারত ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রথ বেরিয়েছিল। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা স্বতঃস্ফূর্ত।
https://twitter.com/TusharG/status/1311236687620534272
কংগ্রেস নেতা আহমেদ পটেল টুইট করে বলেছেন, বাবরি মসজিদ ভাঙা নিয়ে রায় 'শকিং'।
https://twitter.com/ahmedpatel/status/1311231341137018880
সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, ন্যায়বিচার হয়নি।
https://twitter.com/SitaramYechury/status/1311290761875390464
বাবরি মসজিদ ভাঙার মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলি মনোহর যোশী, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং, বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা বিনয় কাটিহার, সাক্ষী মহারাজ প্রমুখ।
বিচারক তাঁর রায়ে পাঁচটি পয়েন্ট উল্লেখ করেন। প্রথমত, পরিকল্পিতভাবে বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়নি। দ্বিতীয়ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তৃতীয়ত সিবিআই যে ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড পেশ করেছে, তা প্রামাণ্য কিনা জানা যাচ্ছে না। চতুর্থত, সমাজবিরোধীরা মসজিদ ভাঙার চেষ্টা করেছিল। অভিযুক্তরা তাঁদের থামাতে চেষ্টা করেছিলেন। পঞ্চমত, অডিও ক্যাসেটে কয়েকজনের ভাষণ শোনা যাচ্ছে বটে কিন্তু কী বলা হয়েছে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না।
করসেবকরা বিশ্বাস করত, যেখানে বাবরি মসজিদ দাঁড়িয়েছিল, সেখানেই জন্ম হয়েছিল রামচন্দ্রের। তাই তারা মসজিদটি ভেঙে ফেলে। তারপরে দেশ জুড়ে দাঙ্গা শুরু হয়। সরকারি হিসাবমতো দাঙ্গায় ৩০০০ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। অযোধ্যার জমি নিয়ে যে মামলা চলছিল, তা এই বাবরি ভাঙার মামলার থেকে আলাদা। জমির মামলায় ২০১৯ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে। গত ৫ অগাস্ট অযোধ্যায় রামমন্দিরের শিলান্যাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বাবরি মসজিদ ভাঙা পড়ার পরে পুলিশ দু'টি এফআইআর করে। প্রথমটি করা হয় কয়েক লক্ষ করসেবকের বিরুদ্ধে। তাঁরা ৬ ডিসেম্বর মসজিদের ওপরে উঠে হাতুড়ি ও কুড়ুল দিয়ে সৌধটি ভেঙে ফেলেছিলেন। দ্বিতীয় এফআইআরটি হয় আটজনের বিরুদ্ধে। তাঁরা হলেন বিজেপির আডবাণী, যোশি, উমা ভারতী এবং বিনয় কাটিহার এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অশোক সিঙ্ঘল, গিরিরাজ কিশোর, বিষ্ণুহরি ডালমিয়া এবং সাধ্বী ঋতাম্ভরা। তাঁদের মধ্যে বিষ্ণুহরি ডালমিয়া, গিরিরাজ কিশোর ও অশোক সিঙ্ঘল মারা গিয়েছেন।