দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবই কিন্তু হাফ সেঞ্চুরির বেশি। কেউ বা ৬০-এর ঘরে। পশ্চিম এশিয়ার তাপমাত্রা কোনও বাধা মানছে না। চড়চড় করে বেড়েই চলেছে। অবস্থা এমনই গত ৭৬ বছর ধরে চলে আসা সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে কুয়েত। বেশি পিছিয়ে নেই সৌদি আরব, পাকিস্তানও। গরম বাড়ার প্রতিযোগিতায় যেন নেমেছে তারা।
আসুন দেখে নেওয়া যাক, কোথায় কী রকম তাপমাত্রার পরিসংখ্যান।
২০১৯ সালে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত গরম পড়েছে গোটা বিশ্ব জুড়েই। তবে মাত্রাতিরিক্ত ভাবে পারদ চড়েছে পশ্চিম এশিয়ার দেশ কুয়েতে। সংবাদপত্র আল কাবাস দাবি করেছে, গত সপ্তাহেই শনিবার সরাসরি রোদে কুয়েতের তাপমাত্রা ছিল ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ছায়ার মধ্যে তাপমাত্রা ছিল ৫৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সৌদি আরবের আল মাজমাতে পারদ চড়েছে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ইরাকের দক্ষিণ অংশ মায়সান-এ তাপমাত্রা পরখ করা হয়েছে ৫৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মানুষজনের অবস্থা তো ছেড়েই দিন, তীব্র দাবদাহে গলে যেতে বসেছিল রাস্তায় দাঁড়ানো গাড়িও। অসহ্য রোদের তেজে অসহায় হয়ে পড়েছেন কুয়েতবাসী। সারা গরমকাল জুড়েই কুয়েতে তাপপ্রবাহ চলবে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিকাল অর্গানাইজেশন। গরম কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং বাড়তে পারে অস্বস্তি।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালের ২১ জুন কুয়েতের মিত্রিবাহ -তে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৫৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে ২০১৭ সালের ২৮ মে পাকিস্তানের তুরবাত-এ তাপমাত্রা ছিল ৫৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালিতে ২০১৩ সালের ৩০ জুন তাপমাত্রা ছিল ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই একই জায়গায় ১৯১৩ সালে তাপমাত্রা ছিল ৫৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৩১ সালের ৭ জুন তিউনিসিয়ার কেবিলিতে তাপমাত্রা ছিল ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এতদিন পর্যন্ত ১৯১৩ সালে ডেথ ভ্যালির পারদ ছিল বিশ্বের প্রথম উষ্ণতম তাপমাত্রার রেকর্ড। দ্বিতীয় স্থানে ছিল ১৯৩১ সালে তিউনিসিয়ার তাপমাত্রা। আর তৃতীয় এবং এশিয়ায় প্রথম ছিল ২০১৬ সালে কুয়েতের মিত্রিবাহ-র তাপমাত্রা। কিন্তু বিগত সব বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ২০১৯ সাল। কুয়েতের পারদ একলাফে ছুঁয়েছে ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাল্লা দিচ্ছে পাকিস্তানও। সম্প্রতি দেখা গিয়েছে করাচিতে গরমের তাপে অতিষ্ঠ মানুষ বোট নিয়ে সমুদ্রে নেমে পড়েছিলেন। অন্তত জলে নেমে সাময়িক ভাবে যাতে একটু ঠাণ্ডা অনুভব করা যায়, সেই আশায়।
বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে তাপমাত্রা। চলতি বছর সেটা খানিকটা লাগামছাড়া। কবে তাপমাত্রা কমবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কোনও পূর্বাভাস এখনও দেয়নি ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিকাল অর্গানাইজেশন। বরং তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে এই সব দেশে।