দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ পৃথিবী জুড়ে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে দেখা যাচ্ছে উপসর্গ যুক্ত আক্রান্তদের তুলনায় উপসর্গ হীন বা মৃদু অথবা মধ্যম উপসর্গ যুক্ত আক্রান্তদের সংখ্যাটা অনেক বেশি। কিন্তু মৃদু উপসর্গ যুক্ত রোগীরা করোনা থেকে সেরে ওঠার পরেও তাঁদের মধ্যে একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে বা তাঁরা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকতে পারেন বলে মনে করছেন একদল গবেষক।
ফ্রান্সের এক গবেষক দল এই দাবি করেছেন। ট্যুরস ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ১৫০ জন রোগীদের মধ্যে এই গবেষণা চালিয়েছেন তাঁরা। এই রোগীদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল না। মার্চ মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই গবেষণা চালিয়েছেন তাঁরা। তাতে দেখা গিয়েছে, দুই তৃতীয়াংশ রোগী যাঁদের মধ্যে মৃদু উপসর্গ ছিল, তাঁরা ৬০ দিন পরেও অসুস্থ রয়েছেন। বাকি এক তৃতীয়াংশের শরীরে উপসর্গ অপেক্ষাকৃত বেশি। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৪০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রোগীদের মধ্যেই এই অসুস্থতা দীর্ঘদিন দেখা যাচ্ছে। ফলে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে।
গত সোমবার ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইনফেকশন নামের একটি জার্নালে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে পৃথিবী জুড়ে এখনও পর্যন্ত যে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে একটা অংশের রোগীদের শরীরে বেশ কয়েক সপ্তাহ কিংবা এক মাস পরেও প্রভাব দেখা গিয়েছে। তার ফলেই পোস্ট কোভিড ক্লিনিক খুলতে হচ্ছে। কারণ, অনেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও নানা রকমের সমস্যা দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মাথা ব্যথা, ফুসফুস ও হৃদয় সংক্রান্ত সমস্যা।
ফরাসি এই গবেষোক দলের প্রধান ক্লডিয়া কারভালহো- শ্নেইডার ও তাঁর সহকারীরা এই জার্নালে লিখেছেন, “আমরা এই রোগের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছি। তাতে দেখা গিয়েছে মৃদু অথবা মধ্যম উপসর্গ যুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে উপসর্গ অনেক দিন থাকছে। ফলে শারীরিক অসুস্থতাও থাকছে। তাই সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও এই ভাইরাসের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।”
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, কোভিড উপসর্গ ধরা পড়ার দু’মাস পরে ৬৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম হল গন্ধ শোঁকার বা স্বাদ নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা করা, ফুসফুস ও হৃদয়ের সমস্যা দেখা দেওয়া। যাঁদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়, তাঁদের মধ্যে করোনা পরবর্তীতে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে সেটা খতিয়ে দেখতেই এই গবেষণা করা হয়েছিল। আর তাতেই উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য, এমনটাই দাবি করছেন ওই ফরাসি গবেষকরা।