দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতালের বাইরে অসাড় হয়ে পড়ে রয়েছেন এক প্রৌঢ়া। আর গোটা হাসপাতাল চত্বর জুড়ে ছুটে চলেছেন এক যুবক। চিৎকার করে বারবার বলছেন, “কেউ আছেন?” তারস্বরে চেঁচিয়েও সাড়া না মেলায় শেষে একটা জানলার কাঁচ ভেঙে ভিতরে মুখ ঢুকিয়ে ডাকতে শুরু করেন ওই যুবক। যদি কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। তবে হাজার চেষ্টাতেও কোনও লাভ হয়নি। সাহায্য তো দূরে থাকা চারপাশে একজন লোককেও দেখা যায়নি। ততক্ষণে কান্নায় গলা বুজে এসেছে ওই যুবকের। ছুটে গিয়ে মহিলার পাশে বসে পড়েন তিনি। অসহায় ভাবে এদিক ওদিক তাকিয়ে নিজের কোলে তুলে নেন মহিলার মাথা। তারপর কাঁদতে থাকেন।
সম্প্রতি টুইটারে ছড়িয়ে পড়েছে এমনই এক ভিডিও। জানা গিয়েছে, ওই প্রৌঢ়া যুবকের মা। হাসপাতালের বাইরেই মাকে শুইয়ে ছেলে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন কাউকে একটা ডেকে আনতে। যাতে বন্ধ গেট খুলিয়ে মাকে ভিতরে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো যায়। তবে পারেননি। তাঁর শত ডাকেও সাড়া দেননি কেউ। হাসপাতালের বাইরে শুয়ে তখন বোধহয় অসহায় ছেলেকে দেখছিলেন অসুস্থ মা। গুনছিলেন মৃত্যুর প্রহর। শেষ হাসপাতালের বাইরেই মারা যান ওই প্রৌঢ়া। মাকে বাঁচানোর সবরকম চেষ্টাই করেছিলেন ছেলে। তবে পরিস্থিতি তাঁর সহায় হয়নি। মাকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই যুবক।
https://twitter.com/i/status/1279311269317632000
জানা গিয়েছে, এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশের হারদোই জেলার। সেখানকার সাওয়াইজোর কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে মাকে নিয়ে পৌঁছেছিলেন ওই যুবক। কিন্তু বন্ধ ছিল হেলথ সেন্টারের দরজা। বহুবার ডাকাডাকি করেও কারও বিন্দুমাত্র সাড়া পাওয়া যায়নি। বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালের বাইরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই যুবকের নাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল শুরু হয়েছে। হেলথ সেন্টারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই যুবক সঠিক গেটে নিজের মাকে নিয়ে হাজির হননি। তাই কোনও কর্মী দেখতে পাননি তাঁদের। ফলে পরিষেবা দেওয়াও সম্ভব হয়নি। হেলথ সেন্টার কর্তৃপক্ষের কথায়, কাজের সময়ের পর মেন গেট বন্ধ হয়ে যায়। তখন পিছনের গেট দিয়ে প্রসূতি কিংবা ইমার্জেন্সি কেসের রোগীদের নিয়ে যাওয়া হয় ভিতরে। এ ছাড়াও হেলথ সেন্টারের তরফে জানানো হয়েছে ওই মহিলাকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে মারা যান তিনি। কিন্তু ডিউটি আওয়ার্সের পরে কী ভাবে জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী হেলথ সেন্টারের মেন গেট বন্ধ হয়ে যায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।