
শেষ আপডেট: 21 May 2020 02:01
বস্তুত বুধবার সকালেই আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে বলা হয়েছিল, ঘূর্ণঝড় উমফান সুন্দরবনে আছড়ে পড়লেও তার নিশানা হতে পারে কলকাতাও। শহরের উপর দিয়ে সর্বোচ্চ ১৩০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড় বয়ে যাবে। তার ফলে কলকাতা তছনছ হতে পারে। কারণ, তাতে গাছ, বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঝড়ে কলকাতায় বহু বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙেছে। এ বাড়ির ছাদের জিনিস উড়ে গেছে অন্য বাড়িতে। তা ছাড়া বহুতল আবাসনে জলে ভেসে গেছে অনেক ফ্ল্যাট। অ্যালুমিনিয়াম চ্যানেলের জানালা দিয়ে হুহু করে ঘরে ঢুকে পড়েছে জল।
আবহাওয়া দফতরের এই পূর্বাভাস জানার পর, পুরসভা ও পুলিশের তরফে এদিন কলকাতাবাসীকে বারবার সতর্ক করে দেওয়া হয় যে দুপুরের পর কেউ যেন রাস্তায় না বেরোন। মাইকে করে লাগাতার প্রচার চালিয়ে যায় পুলিশ। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কলকাতার বেশ কিছু উড়ালপুল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিপজ্জনক বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে তাঁদের নিকটবর্তী স্কুল, কমিউনিটি হলে রাখার ব্যবস্থা করে প্রশাসন। অনেককে তাঁদের আত্মীয়দের বাড়িতেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তা ছাড়া ফুটপাতবাসীদেরও নিকটবর্তী স্কুল ও কমিউনিটি হলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কারণেই অপ্রীতিকর ঘটনা বিশেষ ঘটেনি। কিন্তু গাছ পড়ে বিপত্তির একশেষ হয়েছে। বালিগঞ্জ, সাদার্ন অ্যাভেনিউ, গড়িয়াহাট, নিউ আলিপুর, শেক্সপীয়র সরণী, যাদবপুর, একবালপুর, চেতলা, টালিগঞ্জ, হেস্টিংস, উল্টোডাঙা, বেনিয়াপুকুর, হাজরা, ভবানীপুর সহ বহু এলাকায় গাছ উপড়ে গিয়ে বা ডাল ভেঙে লণ্ডভণ্ড অবস্থা হয়েছে। কসবায় ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে রাস্তার উপর আছড়ে পড়ে। ফলে বিদ্যুতের তার গাছ মায় মিলে রাসবিহারী কানেক্টরই প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। একই ভাবে ট্রামের তার ছিঁড়ে পড়েছে কলেজ স্ট্রিট এলাকায়। উড়ে গিয়েছে একাধিক মেট্রো স্টেশনের শেড।
পুলিশ ও পুরসভা সূত্রে বলা হচ্ছে, গাছ কেটে বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে কলকাতায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ফেরানোর জন্য কাজ চলছে। তা ছাড়া বিদ্যুতের সংযোগ মেরামতের কাজ শুরু করে দিয়েছে সিইএসসিও। পুরসভার এক কর্তা বুধবার রাতে বলেন, এমনিতে করোনা সংক্রমণের কারণে কলকাতায় যানবাহণের চাপ কম। নইলে সাধারণ পরিস্থিতি থাকলে অন্তত দুদিন বহু মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হত।