দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিমবাহ গলা বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত উত্তরাখণ্ড। চামোলি ও জোশীমঠের অবস্থা সবথেকে খারাপ। ধৌলিগঙ্গা, ঋষিগঙ্গা ও অলোকানন্দার জলে তছনছ হয়ে গিয়েছে সব। এই জলের তোড়েই ভেসে গিয়েছে উত্তরাখণ্ডের তপোবন বিষ্ণুদ্যোগ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। অন্তত ১৪৮ জন কর্মী নিখোঁজ বলে খবর।
ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে দেখে মনে হচ্ছে কেন্দ্রের কিছুই আর আস্ত নেই। দেহরাদুন থেকে ২৮০ কিলোমিটার পূর্বে ধৌলিগঙ্গা ও ঋষিগঙ্গার সংযোগস্থলে তৈরি এই কেন্দ্র সম্পূর্ণ ধুয়ে গিয়েছে। এই কেন্দ্রে পৌঁছনোর জন্য যে দুটি সেতু ছিল সেই দুটিও ভেঙে গিয়েছে। অবশ্য জোশীমঠ থেকে তপোবন যাওয়ার যে প্রধান রাস্তা তা ঠিক রয়েছে।
বায়ুসেনা সূত্রে খবর, নন্দাদেবী হিমবাহের বরফ গলে এই বন্যার সৃষ্টি। তারপরে ধৌলিগঙ্গা, ঋষিগঙ্গা ও অলোকানন্দা হয়ে তা চামোলি ও পিপলকোটি পর্যন্ত নেমেছে। তার যাত্রাপথেই ছিল ৫২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তপোবন প্রজেক্ট। এনটিপিসি সেই কেন্দ্রের দেখভাল করত। ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে বানানো হয়েছিল এই কেন্দ্র।
সূত্রের খবর, যে সময় এই বন্যার জল জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ধাক্কা মারে সেই সময় কেন্দ্রের মধ্যে অনেক কর্মচারীই ছিলেন। তাঁরা সময়ের মধ্যে বেরিয়ে আসতে পারেননি। ফলে জলের তোড়ে তাঁরাও ভেসে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। যে ১৭০ জন নিখোঁজ তাঁদের মধ্যে এই কেন্দ্রেরই ১৪৮ জন কর্মী রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের উদ্ধার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত চামোলি জেলায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। মৃতদের পরিবারবর্গকে ৪ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছে মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ যোজনা থেকে মৃতদের ২ লাখ টাকা করে ও গুরুতর আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা হয়েছে।
বন্যার পর থেকেই পুরোদমে শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। জোশীমঠে একটি ৩০ বেডের হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া শীনগর, ঋষিকেশ, জলিগ্রান্ট ও দেহরাদুনের হাসপাতালকে তৈরি রাখা হয়েছে। এই মুহূর্তে উদ্ধারের কাজ করছে এনডিআরএফের ৮টি দল। এছাড়া রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও আইটিবিপির দুটি দল রয়েছে। ছয় কোম্পানি সেনাও মোতায়েন হয়েছে সেখানে। এছাড়া খনন করতে দক্ষ নৌবাহিনীর এমন সাতটি দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।