তপোবন সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার আরও তিনটি দেহ, উত্তরাখণ্ডের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোরকদমেই চলছে উদ্ধারকাজ। তপোবন সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢুকে পড়েছেন আইটিবিপি, এনডিআরএফ ও এসডিআরফের জওয়ানরা। কাদা-পাথর, মাটি সরিয়ে পথ তৈরি করা হচ্ছে সুড়ঙ্গের ভেতরে। আটকে পড়া শ্রমিকদের মরিয়া খোঁজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকারী জওয়ানরা। আজ ভো
শেষ আপডেট: 16 February 2021 03:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোরকদমেই চলছে উদ্ধারকাজ। তপোবন সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢুকে পড়েছেন আইটিবিপি, এনডিআরএফ ও এসডিআরফের জওয়ানরা। কাদা-পাথর, মাটি সরিয়ে পথ তৈরি করা হচ্ছে সুড়ঙ্গের ভেতরে। আটকে পড়া শ্রমিকদের মরিয়া খোঁজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকারী জওয়ানরা। আজ ভোরে আরও তিনটি দেহ উদ্ধার হয়েছে সুড়ঙ্গ থেকে। গতকাল থেকে মোট ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, এখনও অবধি মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে।
এ দিন আরও দেহ উদ্ধারের পর উদ্ধারকাজের গতি আরও বাড়ানো হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। প্রায় আড়াই কিলোমিটার লম্বা টানেল। আইটিবিপি-র জওয়ানরা বলছেন, ‘ইউ’ আকৃতির সুড়ঙ্গটা প্রায় ১২ থেকে ১৫ ফুট হবে। ভেতরে বন্যার জলের মাটি, পাথর, কাদা জমে পথ আরও দুর্গম করে তুলেছে। কোথায় খাদ তৈরি হয়েছে বোঝা যাচ্ছে না। তার ওপর সুড়ঙ্গের মাথায় কংক্রিটের পাথর ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বন্যার জলের তোড়ে মাটি নরম। যখন তখন টানেলের ছাদ হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়তে পারে। বিপদ মাথায় নিয়েই ভেতরে আটকে থাকা বিপন্ন মানুষগুলোকে খুঁজে চলেছেন জওয়ানরা।

উদ্ধারকাজের একটি ভিডিও সামনে এসেছে। তাতে দেখা গেছে গায়ে জ্যাকেট চাপিয়ে, মাথায় হলুদ হেলমেট পরে সুড়ঙ্গে ঢুকছেন জওয়ানরা। হেলমেটে লাগানো আলোই ভরসা। আইটিবিপি-র মুখপাত্র বিবেক কুমার পাণ্ডে বলেছেন, টানেলের ভেতরে ১২০ মিটার রাস্তা পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে ভেতরটা খুবই অন্ধকার। একে অপরকে প্রায় দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে। চিৎকার করে কথা বলতে হচ্ছে। কে কতদূর পৌঁছচ্ছেন তার খোঁজ রাখা হচ্ছে। সামনে বিপদ দেখলে একে অপরকে সতর্ক করে দেবেন।

আইটিবিপি-র মুখপাত্র বিবেক পাণ্ডে জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের বাইরে অপেক্ষা করছে মেডিক্যাল টিম। অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে পৌঁছে গেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। মাটি কাটার বড় বড় যন্ত্র তৈরি রাখা হয়েছে। আটকে পড়া শ্রমিকদের বাইরে আনলেই প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়ে যাবে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দলের জওয়ানরা বলছেন, জল আর পাথরে সুড়ঙ্গের ভেতরটা বিপদসঙ্কুল হয়ে উঠেছে। এখনও অবধি শুধু মৃতদেহই উদ্ধার হয়েছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে জীবীত কেউ আটকে আছেন কিনা তার হদিশ মেলেনি। অন্তত ৩৫ জন শ্রমিক এই সুড়ঙ্গেই আটকে পড়েছিলেন।
উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠের কাছে নন্দাদেবী হিমবাহ ফেটে তীব্র জলোচ্ছ্বাসের জেরে ভেসে গিয়েছে একের পর এক গ্রাম। রেনি গ্রামে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-সহ ওই এলাকার ৪টি ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়েছে। এনটিপিসি-র জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের দুটি সুড়ঙ্গে অনেক শ্রমিক কাজ করছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগই ভেসে গিয়েছেন জলের তোড়ে। এখনও অন্তত ১৭০ জন নিখোঁজ।