দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবি নিয়ে দিল্লির বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। এই অবস্থানের জেরে দিল্লি যাওয়ার সব রাস্তা অবরুদ্ধ। এরমধ্যেই কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরে এক কৃষক সংগঠন সিদ্ধান্ত নেয় নয়ডা থেকে দিল্লি যাওয়ার হাইওয়ে থেকে অবরোধ তুলে নেবে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে সংগঠনের অন্দরেই।
কৃষকদের এই আন্দোলনে অন্যতম বড় সংগঠন হল ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (ভানু)। এই সংগঠনের সঙ্গেই বৈঠক করেন রাজনাথ সিং। তারপরেই চিল্লা সীমান্তে নয়ডা-দিল্লি হাইওয়ে খোলার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এই হাইওয়ে গত ১৪ দিন ধরে অবরুদ্ধ হয়েছিল। হাইওয়ে খোলার এই সিদ্ধান্ত নেন সংগঠনের সভাপতি ঠাকুর ভানু প্রতাপ সিং।
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন সংগঠনের উত্তরপ্রদেশ ইউনিয়নের প্রধান যোগেশ প্রতাপ। গত ১২ দিন ধরে চিল্লা সীমান্তে নয়ডা-দিল্লি হাইওয়েতে তাঁর নেতৃত্বেই অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। তিনি শুধুমাত্র এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি, তিনি জানিয়েছেন ওই রাস্তার উপরে বসেই আমরণ অনশন করবেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আন্দোলন স্থলের মধ্যেই বিবাদ শুরু হয়। কার্যত দুটি পক্ষে ভাগ হয়ে গিয়েছেন কৃষকরা। সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক চিমেন্দ্র সিং চাউরোলি ও মুখপাত্র সতীশ চৌধরী এই রাস্তা খোলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁরা সংগঠনের সভাপতি ঠাকুর ভানু প্রতাপ সিংকে বিশ্বাসঘাতক বলে উল্লেখ করেছেন।
কৃষক আন্দোলনের একদম সামনের সারিতে রয়েছে এই ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (ভানু)। এই সংগঠনের তরফেই সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। তারপরেই এই মতভেদ তৈরি হয়েছে।
যদিও গত বৃহস্পতিবার থেকে বিক্ষোভের মাত্রা আরও বাড়িয়েছে কৃষকরা। তারা জানায়, দিল্লি-জয়পুর হাইওয়ে অবরোধ করবে। সেইমতো শুক্রবার ও শনিবার এই হাইওয়ে অবরোধ করা হয়। অন্যদিকে রবিবার হরিয়ানা থেকে কৃষকদের দিল্লির দিকে যাওয়া আটকাতে রেওয়ারিতে হাইওয়ে অবরুদ্ধ করে দেয় হরিয়ানা পুলিশ।