মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে বেধড়ক মার পুলিশের, ভিডিও ভাইরাল হতেই পদক্ষেপ উত্তরপ্রদেশ সরকারের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাটিতে পড়ে রয়েছেন এক যুবক। তাঁর বুকের উপর পা তুলে লাঠির বাড়ি মেরেই চলেছেন এই পুলিশকর্মী। যুবকের শত ক্ষমাভিক্ষাতেও থামছে না মার। সম্প্রতি এমনই এক ভিডিও সামনে এসেছে উত্তরপ্রদেশে। পুলিশের এক হিংস্রতার নিন্দা শুরু হয়েছে সোশ্যাল
শেষ আপডেট: 3 May 2020 11:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাটিতে পড়ে রয়েছেন এক যুবক। তাঁর বুকের উপর পা তুলে লাঠির বাড়ি মেরেই চলেছেন এই পুলিশকর্মী। যুবকের শত ক্ষমাভিক্ষাতেও থামছে না মার। সম্প্রতি এমনই এক ভিডিও সামনে এসেছে উত্তরপ্রদেশে। পুলিশের এক হিংস্রতার নিন্দা শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যোগী সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে সমাজবাদী পার্টি। অবশেষে ভিডিওতে মারতে দেখা ওই পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের এটাওয়াহ জেলার একটি গ্রামে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে তা একটা বাড়ির ছাদ থেকে তোলা। সেখানে দেখা যাচ্ছে বাড়ির বাইরে রাস্তায় এক যুবককে ফেলে বেধড়ক মারছেন এক পুলিশকর্মী। লাথি, ঘুষি কিছুই বাদ নেই। যুবকের বুকে পা তুলে একের পর এক লাঠির বাড়ি মেরে চলেছেন। অন্যদিকে চিৎকার করছেন ওই যুবক। তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “প্রধানজি ( গ্রামের প্রধান ) আমাকে বাঁচান।” কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি। ২ মিনিট ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে যুবককে খালি মার খেতেই দেখা গিয়েছে।
এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ার পরেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। পুলিশের এই বর্বর আচরণের নিন্দা করেন সবাই। উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টিও। তাদের টুইটার অ্যাকাউন্টে এই ভিডিও শেয়ার করে ওই পুলিশকর্মী ও স্টেশন অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
https://twitter.com/samajwadiparty/status/1256809776664637440?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1256809776664637440&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.ndtv.com%2Findia-news%2Fetawah-on-camera-up-cops-torture-man-call-it-use-of-minimal-force-2222434
সূত্রের খবর, যে যুবককে মারধর করা হয়েছে, তিনি মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী। দু’বছর আগে আগ্রাতে তাঁর মানসিক চিকিৎসা করা হয়েছে বলে খবর। এভাবে মানসিক প্রতিবন্ধী এক যুবককে নির্দয়ভাবে মারধরের ঘটনায় সমালোচনা শুরু হয় পুলিশের বিরুদ্ধে।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এটাওয়াহ পুলিশের তরফে একটা বিবৃতি দিয়ে জানানো হয় ওই যুবকের নাম সুনীল যাদব। তিনি নেশা করে গ্রামের মানুষকে হেনস্থা ও মারধর করতেন। গ্রামবাসীদের তরফেই পুলিশে অভিযোগ করা হয়। তাঁরা সেখানে গেলে তাঁদের দেখে নাকি ছুরি নিয়ে তেড়ে আসেন ওই যুবক। তখনই পরিস্থিতি সামলাতে সামান্য বল প্রয়োগ করতে হয় পুলিশকে।
এই বিবৃতির পরেও সমালোচনা থামেনি। পরে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন এটাওয়াহর পুলিশ প্রধান। তদন্ত রিপোর্টে বলা হয় ওই পুলিশকর্মী একটু বেশিই মারধর করেছেন। রিপোর্ট দেওয়ার পরে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করেছে প্রশাসন।