দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্র জানিয়েছে করোনার টিকা খুব তাড়াতাড়ি বাজারে চলে আসবে। আর তারপরেই শুরু হবে ভ্যাকসিন দেওয়া। কিন্তু কাদের আগে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে তার একটা পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ইতিমধ্যেই করে ফেলেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে যেন কোনও ভিআইপি ক্যাটেগরি না থাকে, এমনটাই জানালেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর দাবি, সবার জীবন সমান গুরুত্ত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যেকে যেন টিকা পান। তবে কোভিড যোদ্ধাদের, বয়স্ক মানুষদের ও কো-মর্বিডিটির সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের আগে ভ্যাকসিন দেওয়া যেতে পারে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন কেজরিওয়াল। তিনি জানান, কেন্দ্রের তরফে হয়তো বন্টনের পরিকল্পনা করে দেওয়া হবে। তবে তিনি চান, প্রয়োজনের ভিত্তিতে এই ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত। কোনও রাজনৈতিক গুরুত্ত্ব যেন সেখানে দেওয়া না হয়।
কেজরিওয়াল বলেন, “গোটা বিশ্ব ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় বসে রয়েছে। দিল্লি সরকারও তার অপেক্ষায়। মনে হয় বন্টনের পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সরকার করে দেবে। যদি ওরা আমাদের পরামর্শ নেয়, তাহলে বলব এখানে কোনও ভিআইপি-নন ভিআইপি ক্যাটেগরি থাকা উচিত নয়। সবাই সমান। সবার জীবন সমান গুরুত্ত্বপূর্ণ।”
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের একটা জিনিস করা উচিত। প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত করোনা যোদ্ধাদের। কারণ তাঁরা রাত-দিন কঠিন পরিশ্রম করছেন। তারপরে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বয়স্ক মানুষ ও কো-মর্বিডিটির সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের। রাজনীতি নয়, প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী এই ভাগ করা উচিত। আমি এটাই মনে করি।”
দিল্লিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। কেজরিওয়াল সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দিল্লিতে করোনার তৃতীয় ওয়েভ শুরু হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনও হাতের বাইরে বেরিয়ে যায়নি বলেই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লি মডেল অনুযায়ী কোভিড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা সরকার করছে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কেজরিওয়াল বলেন, “এই মুহূর্তে দিল্লির ৪৩ হাজার অ্যাকটিভ রোগীর মধ্যে ২৫ হাজার মানুষ হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। যদি আমরা ২৫ হাজার রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিই, তাহলে বেড আর বেশি থাকবে না। তাই যাঁরা বাড়িতে রয়েছেন তাঁদের জন্য টেলি-কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হচ্ছে। সবার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।”
দিল্লিতে সংক্রমণ বাড়ার পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন কেজরিওয়াল। তারপরেই দিল্লিতে ৭৫০ বেড বাড়ানো হয়। মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন তার জন্য কেজরিওয়াল সরকার ঘোষণা করেছে মাস্ক পরে না বেরলে ২০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। তাছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে ৮০ শতাংশ আইসিইউ বেড কোভিড রোগীদের জন্য সংরক্ষণ করে রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।