দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বছর পরে জম্মু-কাশ্মীরের গান্দেরবাল ও উধমপুর জেলায় হাইস্পিড ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করেছিল প্রশাসন। বাকি জেলাগুলিতেও পরিষেবা শুরু করা যায় কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে জম্মু-কাশ্মীরের বাকি ১৮ জেলায় ৪জি ইন্টারনেট পরিষেবা শুরু করা হচ্ছে না বলেই জানিয়ে দিল প্রশাসন। জঙ্গি দল ও তাদের সমর্থকরা এই পরিষেবা ব্যবহার করে নাশকতা চালাতে পারে বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের তরফে এই কথা জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখ্যসচিব শালীন কাবরা একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই মুহূর্তে ১৮ জেলায় ২জি ইন্টারনেট পরিষেবা চলবে। ৪জি পরিষেবা চালু হবে না। তবে গান্দেরবাল ও উধমপুরে যে পরিষেবা শুরু হয়েছিল তা আপাতত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। কারণ, এই দুই জেলা থেকে ইন্টারনেট পরিষেবার অপব্যবহারের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। বর্তমানে ১৮টি জেলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তারা জানিয়েছে, এই মুহূর্তে হাইস্পিড ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করা হলে সেই পরিষেবার অপব্যবহার করে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করতে পারে জঙ্গিরা। জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ থেকে শুরু করে একাধিক কাজে এই পরিষেবা ব্যবহার করা যেতে পারে বলেই আশঙ্কা। তাতে উপত্যকার পরিবেশ ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তাই এই অবস্থায় কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।
জানা গিয়েছে, আপাতত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গান্দেরবাল ও উধমপুরে ৪জি ও বাকি ১৮ জেলায় ২জি পরিষেবা চলবে। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর পরিস্থিতি বিচার করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন। যাতে কোনও ভাবেই উপত্যকায় নাশকতা না হয়, সেই দিকে সজাগ রয়েছে প্রশাসন।
গত বছর ৫ অগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়ার আগে থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ইন্টারনেট পরিষেবা। কেন্দ্র জানিয়েছিল, ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহার করে জম্মু-কাশ্মীরের মানুষকে ভুল বুঝিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলতে পারে জঙ্গিরা। তাই কোনও রকমের ঝুঁকি নিতে চায়নি তারা।
অবশ্য চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরে ফের চালু হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। তবে শুধুমাত্র ২জি পরিষেবা শুরু হয়। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও সর্বভারতীয় দল প্রতিবাদ করে। অভিযোগ করা হয়, উপত্যকার মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে। তারপরেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে গান্দেরবাল ও উধমপুর, এই দুই জেলায় ট্রায়াল বেসিসে শুরু হয় ৪জি ইন্টারনেট পরিষেবা। আপাতত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা চলবে। কিন্তু অন্য কোনও জেলায় এই মুহূর্তে হাইস্পিড ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হবে না বলেই জানিয়ে দিল প্রশাসন।