দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রকাশ করা ব্যাঙ্ক জালিয়াতদের তালিকা নিয়ে বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের বিরুদ্ধে চড়া সুরে আক্রমণ শানিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার বেশি রাতে রাহুল তথা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানাতে উপুর্যুপুরি ১৩টি টুইট করেন অর্থমন্ত্রী। যার মোদ্দা কথা, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ওই তালিকা নিয়ে নির্লজ্জ কায়দায় মানুষকে বিভ্রান্ত করছে কংগ্রেস।
https://twitter.com/nsitharaman/status/1255187183071195136?s=08
প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির অভিযোগ ছিল, ব্যাঙ্ক জালিয়াতদের তালিকায় মেহুল চোকসি, নীরব মোদী, বিজয় মাল্যর মতো বিজেপির বন্ধুরা রয়েছেন। তাই কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের ঋণ মকুব করে দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, কারও ঋণ মকুব করেনি সরকার। কোনও সংস্থা চারবছর ঋণ পরিশোধ না করলে জালিয়াতির তালিকায় তাদের নাম ওঠে। এটা স্বাভাবিক নিয়ম। তাঁর কথায়, "রাহুল গান্ধী এবং রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা টিপিক্যাল কংগ্রেসী কায়দায় সাধারণ একটা বিষয়কে মুখরোচক করে মানুষের সামনে আনতে চাইছেন।"
https://twitter.com/nsitharaman/status/1255187097876484096?s=08
২০০৯-১০ অর্থবর্ষ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত অর্থাৎ দ্বিতীয় ইউপিএ জমানায় কত টাকা ঋণ মকুব করা হয়েছিল তারও উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। নির্মলার অভিযোগ, ওই সময়ে এক লক্ষ ৪৫ হাজার ২২৬ কোটি টাকা ঋণ মকুব করা হয়েছিল। রাহুলের উদ্দেশে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে নির্মলা লেখেন, "ঋণ মুকুব কী হয়েছিল না হয়েছিল সে ব্যাপারে রাহুল গান্ধী নিশ্চয়ই মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন!"
সমাজকর্মী সাকেত গোখলে তথ্য জানার অধিকার আইন অনুযায়ী রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে ঋণখেলাপিদের নাম জানতে চেয়েছিলেন। তার জবাবে আরবিআই ৫০ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করে। তার পরেই সরব হন রাহুল।
https://twitter.com/nsitharaman/status/1255187178658775041?s=08
ওয়ানাড়ের সাংসদ বলেন, “আমি সংসদে একটি সহজ প্রশ্ন করেছিলাম। দেশের সবচেয়ে বড় ৫০ জন ব্যাঙ্ক জালিয়াতের নাম বলুন। কিন্তু অর্থমন্ত্রী জবাব দিতে অস্বীকার করেন। এখন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ওই তালিকা প্রকাশ করেছে। তাতে নীরব মোদী, মেহুল চোকসি ও বিজেপির অন্যান্য বন্ধুর নাম আছে। এই জন্যই তাঁরা সংসদে নামগুলি গোপন করতে চাইছিল।”
গুচ্ছ টুইটের একটিতে নির্মলা লেখেন, "সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা ঋণ পরিশোধ করছেন না বা এক সংস্থার টাকা অন্য সংস্থায় সরিয়ে ফেলছেন তাঁদের ঋণ খেলাপির তালিকায় আনা হয়েছে। এর মানে এই নয় যে সরকার ঋণ মকুব করে দিয়েছে।"
কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ৫০ জন ঋণখেলাপির ৬৮ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা ঋণ মকুব করেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পলাতক ব্যবসায়ী নীরব মোদী, মেহুল চোকসি ও বিজয় মাল্য।
একইসঙ্গে বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৬ লক্ষ ৬৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ মকুব করা হয়েছে। কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা ঋণখেলাপিদের একটি তালিকাও প্রকাশ করেছেন।
ভারতের বিভিন্ন ব্যাঙ্কগুলির অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ এখন ১০ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। তার ফলে দেশের কয়েকটি আর্থিক সংস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, যে ব্যবসায়ীরা ঋণ শোধ না করে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন, তাঁরা বিজেপির ঘনিষ্ঠ। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, বেশিরভাগ কেলেংকারিই হয়েছে ইউপিএ সরকারের আমলে।