দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপোস করেছিলেন তিনি। উপোস শেষে জোম্যাটোর মাধ্যমে অর্ডার করেছিলেন নিরামিষ খাবার। কিন্তু খাবার আসার পর তা খুলে চক্ষু চড়কগাছ পুনের উকিল শানমুখ দেশমুখের। নিরামিষ কোথায়? এ তো রীতিমতো চিকেনের আইটেম। তাও একবার নয়, পরপর দু'বার ঘটল এই ঘটনা। আর তারপরেই ক্রেতাসুরক্ষা আদালতে মামলা করলেন তিনি। আদালতের রায়ে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হলো জোম্যাটোকে।
জানা গিয়েছে, বম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চে কর্মরত ওই উকিল শানমুখ ৩১ মে জোম্যাটোর মাধ্যমে অর্ডার দিয়েছিলেন পনির বাটার মসালা। কিন্তু খাবার ডেলিভারি দেওয়ার পর তিনি দেখেন এসেছে বাটার চিকেন। এই দেখে সেই ডেলিভারি ক্যানসেল করে দ্বিতীয়বার ফের অর্ডার দেন শানমুখ। দ্বিতীয়বারও একই ঘটনা। কিন্তু দ্বিতীয়বার বুঝতে না পেরে সেই খাবারই খেয়ে ফেলেন তিনি। খাওয়ার পরে বুঝতে পারেন, নিরামিষের বদলে ফের চিকেন দেওয়া হয়েছে জোম্যাটোর তরফে।
কয়েকদিন পরে জোম্যাটো ও সংশ্লিষ্ট হোটেলের বিরুদ্ধে নোটিস পাঠান ওই ব্যক্তি। নোটিসে তিনি বলেন, আমিষ খাবার পাঠিয়ে তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা হয়েছে। কিন্তু হোটেল বা জোম্যাটো কেউই কোনও উত্তর দেয়নি। তারপরে বাধ্য হয়ে ক্রেতাসুরক্ষা আদালতে অভিযোগ করেন শানমুখ। তাঁকে হেনস্থা করার জন্য জোম্যাটোর কাছে ৫ লক্ষ ও হোটেলের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন তিনি।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জোম্যাটোর তরফে জানানো হয়, ওই ব্যক্তি কোম্পানির সম্মানহানির চেষ্টা করছেন। কারণ, অভিযোগ পাওয়ার পরেই ওই ব্যক্তিকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। যে গাফিলতি হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট হোটেলের। কোম্পানির নয়। সংশ্লিষ্ট হোটেল অবশ্য নিজেদের গাফিলতি মেনে নেয়।
কিন্তু এই ঘটনায় ক্রেতাসুরক্ষা আদালতের বিচারক নির্দেশ দেন, ওই ব্যক্তিকে হেনস্থা করার জন্য জোম্যাটোকে ৫৫ হাজার টাকা ও হিঞ্জেওয়ারি এলাকার ওই হোটেল প্রীত পাঞ্জাবি স্বাদকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বলা হয়েছে, ১০ দিনের মধ্যে ওই জরিমানা দিতে হবে। ১০ দিনের বেশি দেরি হলে আরও ১০ শতাংশ জরিমানা যোগ হবে।