দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছিল না রেশন কার্ড, আয়ুষ্মান কার্ড। খাবার জোটেনি চারদিন ধরে। না খেয়ে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ঝাড়খণ্ডের বোকারোর যুবক। এই ঘটনা আঙুল তুলেছে রাজ্য সরকারের দিকে। যদিও প্রশাসনের তরফে একে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে।
শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে বোকারোর বাসিন্দা ৪২ বছরের ভুকহাল ঘাসির। তারপরে তাঁর স্ত্রী রেখা দেবী অভিযোগ করেছেন, "আমার স্বামী খিদের জ্বালায় মারা গিয়েছে। পরিবারের সাত সদস্যের কারও মুখেই চারদিন ধরে খাবার ওঠেনি।আমার স্বামী একটা ধাবায় কাজ করত। কিন্তু শরীর অসুস্থ থাকায় ও কাজে যেতে পারেনি। বাড়িতে খাবার ছিল না। অনেককে বলেছি। কেউ সাহায্য করেনি।"
এই ঘটনা সামনে আসার পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। যদিও বোকারোর জেলাশাসক মুকেশ কুমার বলেছেন, "ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখেছে ভুকহালের শরীরে রক্ত খুব কম ছিল। ভুকহাল বেঙ্গালুরুতে কাজ করত। শরীর অসুস্থ হওয়ার পরে ছ'মাস আগে ও বোকারোতে ফিরে আসে। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই ওর মৃত্যু হয়েছে।"
মুকেশ কুমার আরও বলেন, "পরিবারের সবার দেহেই রক্ত কম। বিডিওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে। ওই পরিবার যাতে ভীমরাও আম্বেদকর আবাস যোজনার আওতায় সুযোগ সুবিধা পায় সেটা দেখতে বলা হয়েছে। পরিবারের সবাইকে সরকারের টাকায় চিকিৎসা দেওয়া হবে। সবার দেখভাল করা হবে।"
এই ঘটনা শোনার পরে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন টুইট করে জানান, এই ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে। তারপরেই বোকারোর প্রশাসনের তরফে ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। যদিও এই ঘটনার পরেও রাজনৈতিক তরজা চলছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে সরকারের ব্যর্থতা বলেই অভিযোগ করছেন।