দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমানে পাকিস্তান নয়, বরং চিন ভারতের বড় শত্রু, এমনটাই মন্তব্য করলেন এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার। এমনকি ভারতের থেকে চিনের সেনার পরিমাণ ১০ গুণ বেশি বলেও মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আর তাই চিনের উপর চাপ রাখার জন্য সবসময় বিদেশি শক্তির সাহায্য ভারতের দরকার বলেই তিনি মনে করেন। একমাত্র আন্তর্জাতিক কুটনৈতিক চাপ দিয়েই বেজিংকে চুপ করিয়ে রাখা সম্ভব বলেই মনে করেন পাওয়ার।
রবিবার শিবসেনার মুখপত্র সামনাতে এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি বলেন, “যখন আমরা শত্রুর কথা ভাবি, আমাদের মাথায় প্রথম আসে পাকিস্তানের নাম। কিন্তু পাকিস্তানকে নিয়ে আমাদের চিন্তা করার দরকার নেই। দীর্ঘ সময়ের জন্য ভাবলে দেখা যাবে, চিনের ক্ষমতা রয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ানোর। চিন ভারতের কাছে বড় শত্রু।”
গালওয়ান উপত্যকায় গত ১৫ জুন ভারত ও চিন সেনার মধ্যে সংঘাতের প্রসঙ্গে পাওয়ার বলেন, “আমি বলছি এই বিষয়ে কোনও রাজনীতির প্রয়োজন নেই। তার কারণ হল আমরা ওদের আক্রমণ করতেই পারতাম। কিন্তু তার পর ওদিক থেকে যে চাপ আসত তার জন্য বড় মূল্য চোকাতে হত আমাদের। তাই আক্রমণ না করে আমাদের উচিত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চিনের উপর কূটনৈতিক চাপ ফেলা। তবেই বেজিং চুপ করে থাকবে।”
চিন ভারতের উপর চারদিক দিয়ে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেই মনে করেন পাওয়ার। আর তারজন্যই শুধু পাকিস্তান নয়, নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলিকেও ভারতের বিরুদ্ধে করার চেষ্টা করছে চিন। তিনি বলেন, “যখন নরেন্দ্র মোদী প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন, তিনি নেপালে গিয়ে পশুপতিনাথ মন্দিরে পুজো দেন। নেপালকে ভারতের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসা করেছিলেন মোদী। কিন্তু এখন নেপাল আমাদের সঙ্গে নেই। ওরা চিনের পাশে। বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য সাহায্য করেছিল ভারত। অথচ এখন বাংলাদেশ চিনের দিকে।”
কংগ্রেস আমলে চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অনেক ভাল ছিল বলেই দাবি করেছেন প্রাক্তন এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, “সবাই জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীকে ভারত ও চিনের খারাপ সম্পর্কের জন্য দায়ী করে। কিন্তু সেই সময় পড়শি দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভাল ছিল। ভারতের সঙ্গে সম্প্রতি চিনের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। সেটা বর্তমান সরকারের ত্রুটি।”
ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা নিয়েও মুখ খোলেন শরদ পাওয়ার। তিনি জানান, নরেন্দ্র মোদীর উচিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মতো অর্থনীতিবিদের সাহায্য নেওয়া। তিনি বলেন, “মনমোহন সিং যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, তিনি ভারতীয় অর্থনীতিকে সঠিক দিশা দেখিয়েছিলেন। আমিও ওই মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলাম। আমি মনমোহন সিং ও আর এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাওকে ভারতের অর্থনীতির উন্নতির জন্য সব কৃতিত্ব দিচ্ছি।”
পাওয়ার আরও বলেন, যখন মনমোহন সিং, প্রণব মুখোপাধ্যায়, পি চিদম্বরমরা অর্থমন্ত্রী ছিলেন, তাঁরা সবসময় বিশেষজ্ঞ ও সব দলের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতেন। দেশের অর্থনীতির উন্নতির জন্য কী ভাল, তাই নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা করতেন। তারই ফল দেখা যেত। কিন্তু বর্তমান মোদী সরকারে অন্য দলের কোনও গুরুত্বই নেই। তার ফলেই দেশের অর্থনীতি এত নীচে নামছে।