সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারিতে এক্তিয়ার আছে কেন্দ্রের! সিদ্ধান্ত নতুন বছরের শুরুতেই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেসবুক ব্যবহারকারীদের করা পোস্টের দায় কি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের? সরকারের কি জানার অধিকার আছে একজন নাগরিক কাউকে কী মেসেজ করছেন? এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে নতুন বছরের শুরুতেই। ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনে বদল
শেষ আপডেট: 28 December 2019 05:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেসবুক ব্যবহারকারীদের করা পোস্টের দায় কি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের? সরকারের কি জানার অধিকার আছে একজন নাগরিক কাউকে কী মেসেজ করছেন? এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে নতুন বছরের শুরুতেই। ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনে বদল আসছে। এই বদলের পরেই বোঝা যাবে, কী হতে চলেছে সোশ্যাল মিডিয়ার ভবিষ্যৎ।
গত এক বছর ধরে এই বিষয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তুলেছে, কোন এক্তিয়ারে মানুষের ব্যক্তিগত কথাবার্তা, তথ্যের উপর নজরদারি চালাচ্ছে কেন্দ্রের মোদী সরকার। নভেম্বর মাসে জানা যায় ইজরায়েলি পেগাসাস ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হচ্ছে। অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে নরেন্দ্র মোদী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আইন অনুযায়ী মানুষের স্বার্থেই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের উপর নজরদারি চলছে।
এর পরেই বিক্ষোভ দেখানো শুরু হয় বিভিন্ন মহল থেকে। ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকারে হস্তক্ষেপ করে সংবিধান মানা হচ্ছে না বলে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। অবশ্য তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ে এটাই একমাত্র ইস্যু নয়। তাই জানুয়ারি মাসের সংশোধনীর মাধ্যমে বেশ কিছু বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে সবার সামনে, এমনটাই ধারনা করা যাচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হল জানুয়ারি মাসে যে সংশোধনী হবে তাতে কি শুধুমাত্র মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু মানুষ যেসব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে যেমন ফেসবুক, টুইটার, কিংবা যেসব সার্ভার বা সাইবার ক্যাফের মাধ্যমে এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা হয়, তার উপরও কি প্রভাব পড়তে চলেছে এই সংশোধনীতে।
সাধারণর কোনও অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা যদি ৫০ লক্ষের বেশি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশে সেই সংস্থাকে অফিস খুলতে হয়। কিন্তু যাঁরা সেইসব সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের অ্যাকাউন্ট খুলছেন তাঁরা কি প্রত্যেকেই প্রতিনিয়ত সেই অ্যাপ ব্যবহার করেন। এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, কিন্তু তার ব্যবহারই হয় না। সেইসব অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে?
আরও একটা বিষয় হল কী ভাবে সরকারের পক্ষে জানা সম্ভব, একজন মানুষ কতগুলি অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করছেন। কারণ, কোনও অ্যাপলিকেশন লঞ্চ করতে হলে সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয় না। প্লে-স্টোর থেকে ইচ্ছে করলেই তা ডাউনলোড করে নেওয়া সম্ভব। তাহলে কোনও অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ লক্ষ ছাড়াল কিনা সেটাও সরকারের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। এই সমস্যার সমাধান কী ভাবে হবে?
অর্থাৎ ১৫ জানুয়ারি যে সংশোধনী আনা হবে তাতে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত তথ্য বা কথাবার্তার উপর নজরদারিই নয়, একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এখন দেখার সেদিন ঠিক কী কী বিষয়ে সংশোধনী আনা হয় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে।