দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার একদম প্রথম দিকে রাজস্থানের ভিলওয়ারা জেলায় হু হু করে বেড়েছিল আক্রান্তের সংখ্যা। প্রথম কয়েক দিনেই এই জেলায় প্রায় ২৪ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন কোভিড ১৯-এ। কিন্তু ধীরে ধীরে এই ভাইরাসের মোকাবিলা করেছে প্রশাসন। নেওয়া হয়েছে একাধিক পরিকল্পনা। তারফলে ভিলওয়ারাই ভারতের একমাত্র জেলা যেখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। কী ভাবে এই অসাধ্য সাধন হল এই গ্রামে। যেখানে গোটা দেশে আক্রান্তের হার ঊর্ধ্বমুখী, সেখানে কী ভাবে ভিলওয়ারাতে কমে যাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা।
এই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজস্থানের স্বাস্থ্য দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রোহিত কুমার সিং। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রঘু শর্মা এর নাম দিয়েছেন ‘ভিলওয়ারা মডেল।’ গত পাঁচদিনে কেবলমাত্র একজন করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে এই জেলায়।
কী ভাবে হল এই অসাধ্য সাধন
রোহিত কুমার সিং জানিয়েছেন, এই জেলায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসন কড়া হাতে তা সামলানো শুরু করে দিয়েছিল। সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পুরো জেলায় লকডাউন হয়ে গিয়েছিল। কেউ যাতে বাড়ির বাইরে না বের হয়, সেদিক নজর রাখা হচ্ছিল। তবে এখানে করোনা সংক্রমণের উৎস আলাদা ছিল। এই জেলায় করোনা ছড়িয়েছিল এক ডাক্তারের মাধ্যমে। তাঁর নিজের হাসপাতাল আছে। তিনি অন্য দুটি হাসপাতালেও চিকিৎসা করতে যান। তাঁর মাধ্যমেই এই ভাইরাস ছড়ায়। তাই আমরা প্রথমেই তাঁকে আইসোলেশনে রাখি।
অতিরিক্ত মুখ্যসচিব আরও জানিয়েছেন, “আমরা বুঝতে পেরেছিলাম ওই ডাক্তারের কাছে অনেকেই আসেন। ফলে জেলার প্রত্যেক সদস্যের স্ক্রিনিং জরুরি। তাই আমরা ৭০০০ দল তৈরি করি। এই দলের সদস্যরা অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই গোটা জেলার প্রত্যেকটি মানুষকে স্ক্রিনিং করে দেখে। যাঁর মধ্যেই ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষ্মণ দেখা যায়, তাঁকেই কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়। এই কাজে কেন্দ্রীয় সরকারেরও সাহায্য পেয়েছি আমরা।” এভাবেই ধীরে ধীরে করোনা সংক্রমণের পরিমাণ কমে যায়।
এই মডেল কি অন্য জেলাগুলিতেও ব্যবহার করা যাবে
রোহিত কুমার সিং বলেন, “প্রতিটা জেলার ভাইরাস সংক্রমণের চরিত্র আলাদা। যেমন রামগঞ্জের ক্ষেত্রে এই মডেল আমরা ব্যবহার করতে পারব না, কারণ এই জেলার চারদিকে সীমানা আছে। এই জেলার জনঘনত্ব অনেক বেশি। আবার টঙ্ক জেলার ক্ষেত্রে আমরা এই মডেল ব্যবহার করতে পারি। কারণ টঙ্ক ও ভিলওয়ারার চরিত্র অনেকটা একই রকমের।”
এই প্রসঙ্গে যাঁরা তৃণমূল স্তরে কাজ করেন, তাঁদের সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করা উচিত বলে জানিয়েছেন রোহিত কুমার সিং। তাঁর কথায়, যাঁরা মাটিতে নেমে কাজ করেন, তাঁরা সবথেকে ভালভাবে পরিস্থিতির ব্যাপারে জানেন। তাই এসি ঘরে বসে তাঁদের উপর ছড়ি ঘোরানোর কোনও মানে হয় না। তাঁদেরকে সব কাজে সাহায্য করুন। তাহলেই দেখবেন ফল পাওয়া যাচ্ছে।