দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বাণিজ্য নগরী মুম্বই। আর সেখানেই ঘটল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সোমবার রাতে গাড়ির মধ্যে বসেই ডুবে মারা গিয়েছেন দুই বন্ধু।
জানা গিয়েছে, একটি আন্ডারপাসে আটকে গিয়েছিল তাঁদের গাড়ি। চারপাশে তখন থইথই করছে জল। সামনে মারাত্মক জ্যাম। সাংঘাতিক এক অবস্থার মধ্যে আটকে পড়েছিলেন দুই বন্ধু। গাড়ির ভিতরে বসে থাকতে থাকতে হয়তো ভেবেছিলেন দুর্যোগ কেটে যাবে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। গাড়ির মধ্যেই ঢুকে পড়ে জল। মাত্রা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত জল ঢুকে পড়ায় ডুবে মৃত্যু হয়েছে ওই দুই বন্ধুর।
পুলিশ জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে মালাডের কাছে একটি আন্ডারপাসে। মৃতদের নাম ইরফান খান (৩৭) এবং গুলশন শেখ (৩৮)। জানা গিয়েছে, একটি স্করপিও গাড়িতে ছিলেন ইরফান এবং গুলশন। অতিরিক্ত জল ঢুকে পড়ায় গাড়ির ইঞ্জিন খারাপ হয়ে যায়। আটকে যায় অটোম্যাটিক দরজাও। ফলে জল ঢুকতে দেখে হাজার চেষ্টা করেও বেরোতে পারেননি দু'জন।
রবিবার রাত থেকে শহরে বৃষ্টি হয়েছে ৫৪০ মিলিমিটার। মুম্বইয়ের পুর কমিশনার প্রবীণ পরদেশি জানিয়েছেন, শহরে জুন মাসে বৃষ্টি হয় গড়ে ৫১৫ মিলিমিটার। জুলাইয়ের শুরুতে দু’দিনেই ৫৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি থামার নাম তো নেই, উপরন্তু আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। গত পাঁচ দিন ধরে জলমগ্ন মুম্বই। ২০০৫-এর ১৬ জুলাই এমনই ভয়াবহ অবস্থার সাক্ষী হয়েছিল মুম্বইবাসী। টানা ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবে গিয়েছিল মুম্বই ও শহরতলি এলাকা। তৈরি হয়েছিল বন্যা পরিস্থিতির। ১৪ বছর আগেকার সেই স্মৃতি উস্কে দিয়ে ফের একটানা বৃষ্টি শুরু হয়েছে মুম্বই ও লাগোয়া এলাকায়। স্কুল, কলেজ-সহ সমস্ত সরকারি অফিস আজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
ইতিমধ্যেই একটি আবাসন এবং স্কুলের দেওয়াল ভেঙে পড়ে, জোড়া দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। তাদের মধ্যে রয়েছে অনেক শিশুও। অধিকাংশ রাস্তা জলমগ্ন। জল জমেছে রেললাইনেও। বিমানবন্দরের রানওয়েতে ভেসে বেড়াচ্ছে মাছ। বাতিল হয়েছে অসংখ্য উড়ান। বিপর্যস্ত রেল পরিষেবাও।