দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ডের ভয়ঙ্কর তুষারধসে এখনও অবধি ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বন্যার জলে নিখোঁজ দেড়শোর বেশি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছে রাজ্য প্রশাসন। ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবার পিছু ৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
তুষারধসে বিপর্যস্ত জোশীমঠ। তবে উদ্ধারকাজ চলছে জোরকদমে। বন্যার জলে আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এনডিআরএফ ও আইটিবিপি-র জওয়ানরা। নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজ চলছে। জানা গিয়েছে, একটি সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে ১৬ জনকে উদ্ধার করেছেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা। জলের তোড়ে ভেসে তাঁরা একটি সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে পড়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের নিরাপদে বের করে আনেন জওয়ানরা।
আইটিবিপি-র মুখপাত্র বিবেক পাণ্ডে বলেছেন, অলকানন্দার জল থেকে ১০ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে। এখনও ১৫০ জনের খোঁজ মিলছে না। অন্যদিকে, রেইনি গ্রামের তপোবন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল জানাচ্ছে, বন্যার জলে আকে পড়েছেন অনেকে। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
নন্দাদেবী হিমবাহ ভেঙে ভেসে গেছে চামোলি জেলার রেইনি গ্রাম। উত্তরাখণ্ডের পাওরি, তেহরি, রুদ্রপ্রয়াগ, হরিদ্বার, দেহরাদূনে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিহার ও উত্তপ্রদেশেও তীব্র জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা জারি হয়েছে। চামোলি থেকে ঋষিকেশ অবধি রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিবেন্দ্র সিং বলেছেন, জোশীমঠের কাঠে ৩০টি বেডের হাসপাতাল তৈরি রাখা হয়েছে। শ্রীনগর, ঋষিকেশ, জলিঘাট, দেহরাদূনেও হাসপাতাল তৈরি আছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। আইটিবিজি-র ও এনডিআরএফের সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে সেনাবাহিনীও। বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে আটকে পড়াদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, উদ্ধারকাজের প্রতিটি মূহূর্তের খোঁজ রাখা হচ্ছে। দিল্লি থেকে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আরও কয়েকটি দলকে উত্তরাখণ্ডে পাঠানো হচ্ছে।