দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউটাউন কাণ্ডে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসছে। রহস্যের জট পাকছে। পাঞ্জাব পুলিশের তাড়া খেয়ে শুধুমাত্র আত্মগোপন করার জন্যই কি বাংলায় ঢুকেছিল দুষ্কৃতীরা নাকি এর পেছনে অন্য কারণও রয়েছে সে ব্যাপারে সন্দেহ আরও জোরালো হচ্ছে। গোয়েন্দা অফিসাররা বলছেন, পুলিশের গুলিতে নিহত পাঞ্জাবের 'মোস্ট ওয়ান্টেড' অপরাধী জয়পাল সিং ভুল্লার ও তার সঙ্গী যশপ্রীত খাড়ারের ফ্ল্যাট তল্লাশি করে এমন কিছু সূত্র মিলেছে যা এই সম্ভাবনাকেই আরও জোরদার করছে। এমনও খোঁজ মিলেছে যে ধর্মতলায় ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করছিল দুষ্কৃতীরা। কলকাতাতেই জমিয়ে বসার উদ্দেশ্য ছিল তাদের। কিন্তু কেন? কী ষড়যন্ত্র চলছিল তার হদিশ পেতে এই দলের শিকড় অবধি পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
সাপুরজি এলাকার আবাসনের বি-ব্লকের যে টাওয়ারে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল জয়পাল ও যশপ্রীত তার আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই দুই দুষ্কৃতী ফ্ল্যাটের বাইরে খুব একটা বেরতো না, তবে তাদের কাছে লোকজনের যাতায়াত ছিল। চলতি মাসেই কয়েকজন তাদের ফ্ল্যাটে যাতায়াত করেছে। তারা কারা সে পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, গ্যাংস্টারদের ফ্ল্যাট থেকে যে ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে তা ঘাঁটাঘাঁটি করে চমকে গিয়েছেন অফিসাররা। ওই ল্যাপটপ চালাত জয়পাল। একাধিক নকল আধার কার্ড তৈরি করছিল সে। ল্যাপটপ থেকে অন্তত ৮০টি জাল পরিচয়পত্রের কপি পাওয়া গেছে। জয়পালের পেনড্রাইভে পাওয়া গেছে হলিউডের ক্রাইম থ্রিলার সিনেমা। তদন্তকারীরা বলছেন, থ্রিলার ছবি দেখতে ভালবাসত জয়পাল। তাছাড়া গাড়ির ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন, জাল ড্রাইভিং লাইসেন্সও উদ্ধার হয়েছে ফ্ল্যাট থেকে।
পাঞ্জাবের দুষ্কৃতীদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসূত্র আছে কিনা সে নিয়েও নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকালই ফ্ল্যাটের আলমারিতে দুষ্কৃতীদের জিনিসপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে দেখা গেছে, তাদের জামাকাপড় যে প্লাস্টিকে রাখা ছিল তার ওপর উর্দু ভাষায় পাকিস্তানের ঠিকানা লেখা রয়েছে। কয়েকটি জামাকাপড়ের প্লাস্টিকে পাকিস্তানে পাঞ্জাব প্রদেশের কোনও দোকানের নামও লেখা রয়েছে। যদিও পুলিশ মনে করছে, ঘুরপথে এদের দলেরই অন্য কোনও সদস্য মারফৎ সেই প্লাস্টিক হয়ত এসে পৌঁছেছিল ভুল্লার ও যশপ্রীতের কাছে। তবে এই চক্রের সঙ্গে যে পাকিস্তানের যোগাযোগ আছে সেটা একেবারেই উড়িয়ে দিতে পারছেন না অফিসাররা।
আজ দুষ্কৃতীদের দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সোমবার সে রিপোর্ট জমা করা হবে। দেহ নিতে দুই দুষ্কৃতীরই পরিবার এসেছে কলকাতায়। গতকাল রাতেই থানায় গিয়ে সইসাবুদ করে এসেছেন জয়পালের বাবা। আজ সকালে এসেছে যশপ্রীতের পরিবার। দুই পরিবারের হাতেই আজ দেহ তুলে দেওয়া হতে পারে।