দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউটাউনের সাপুরজি এলাকার আবাসনে পাঞ্জাবের দুষ্কৃতী দলের দুই মাথাই এসেছিল। কিন্তু এদের চক্রের আরও পাণ্ডা এখনও নিখোঁজ। লুধিয়ানায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পাঞ্জাব পুলিশ। কিন্তু নিউটাউনের ফ্ল্যাটে দুই গ্যাংস্টার জয়পাল সিং ভুল্লার ও যশপ্রীত সিং খাড়ারের কাছে যে আরও লোকজন আসত সে ব্যাপারে এখন আর কোনও সন্দেহই নেই তদন্তকারীদের। অনুমান, পাঞ্জাব থেকে এই চক্রটা বাংলা অবধি বিস্তৃত। কলকাতায় পালিয়ে আসার পরে এখানকার কিছু লোকজনই সাহায্য করে দুষ্কৃতীদের। ফ্ল্যাট খুঁজে দেওয়া, ভুয়ো লাইসেন্স দেখিয়ে বাংলার নম্বর প্লেট দেওয়া গাড়ি ভাড়া নেওয়া, সবেতেই মদত ছিল এক বা একাধিক জনের।
তদন্তকারীরা বলছেন, আবাসনের বি টাওয়ারে যে ২০১ নম্বর ফ্ল্যাটে ছিল দুই দুষ্কৃতী সেখানে চিরুনি তল্লাশি চলছে গত কয়েকদিন ধরে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা এসে নমুনা সংগ্রহ করছেন। এই ফ্ল্যাটের ভেতর থেকেই পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছিল দুষ্কৃতীরা, কখনও বেরিয়ে আসছিল বারান্দায়। ফ্ল্যাটের জানলা, দরজা, দেওয়ালে গুলির চিহ্ন রয়েছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ওই ফ্ল্যাটে তৃতীয় ব্যক্তির আঙুলের ছাপ মিলেছে। সে কে তা এখনও জানা যায়নি। তবে অনুমান, সেই তৃতীয় ব্যক্তির নিয়মিত যাওয়া আসা ছিল নিউটাউনের ওই ফ্ল্যাটে।
শুক্রবারও একদফা তল্লাশি অভিযান চলে দুষ্কৃতীদের ফ্ল্যাটে। আরও কিছু নতুন তথ্য হাতে আসে তদন্তকারীদের। জানা যায়, ওই ফ্ল্যাটে বাইরে থেকে কিছু লোকজনের যাতায়াত ছিল। চলতি মাসেই কেউ বা কারা তাদের ফ্ল্যাটে এসেছিল। তারা কারা সে পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, গ্যাংস্টারদের ফ্ল্যাট থেকে যে ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে তা ঘাঁটাঘাঁটি করে চমকে গিয়েছেন অফিসাররা। ওই ল্যাপটপ চালাত জয়পাল। একাধিক নকল আধার কার্ড তৈরি করছিল সে। ল্যাপটপ থেকে অন্তত ৮০টি জাল পরিচয়পত্রের কপি পাওয়া গেছে। জয়পালের পেনড্রাইভে পাওয়া গেছে হলিউডের ক্রাইম থ্রিলার সিনেমা। তদন্তকারীরা বলছেন, থ্রিলার ছবি দেখতে ভালবাসত জয়পাল। তাছাড়া গাড়ির ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন, জাল ড্রাইভিং লাইসেন্সও উদ্ধার হয়েছে ফ্ল্যাট থেকে।
পাঞ্জাবের দুষ্কৃতীদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসূত্র আছে কিনা সে নিয়েও নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ফ্ল্যাটের আলমারিতে দুষ্কৃতীদের জিনিসপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে দেখা গেছে, তাদের জামাকাপড় যে প্লাস্টিকে রাখা ছিল তার ওপর উর্দু ভাষায় পাকিস্তানের ঠিকানা লেখা রয়েছে। কয়েকটি জামাকাপড়ের প্লাস্টিকে পাকিস্তানে পাঞ্জাব প্রদেশের কোনও দোকানের নামও লেখা রয়েছে। এইসব কীভাবে জয়পাল আর যশপ্রীতের কাছে এল সে নিয়েও তদন্ত চলছে। পাঞ্জাব পুলিশ আগেই জানিয়েছিল, জম্মু-কাশ্মীর সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র পাচার হত কিনা সে খোঁজ চলছে। কারণ এই দুই দুষ্কৃতী ও তার দল মাদক ব্যবসার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গেও জড়িত ছিল বলে মনে করছে পুলিশ। আততায়ীদের ফ্ল্যাট থেকে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এমনকি ‘মেড ইন পাকিস্তান’ লেখা রিভলবারও পাওয়া গেছে তাদের কাছে।