
শেষ আপডেট: 15 August 2018 06:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপুর্যুপরি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে এমনিতেই ক্ষোভে উত্তাল দেশ। উপরি সম্প্রতি বিহারের হোমে মহিলা ও নাবালিকাদের ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলেছে, সরকার করছে টা কী? আবার তারই মধ্যে ফের সামনে এসে পড়েছে মধ্যপ্রদেশের হোমে ধর্ষণ কাণ্ড!
মহিলাদের নিরাপত্তার অভাব নিয়ে সার্বিক এই অসন্তোষ আঁচ করে বুধবার লাল কেল্লার বক্তৃতায় ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ধর্ষণ একটি দানবীয় মানবিক প্রবৃত্তি। সমাজ ও দেশকে এর থেকে মুক্ত করতে হবে।” তিনি জানান, সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশে একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে শুনানি শেষ করে অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই কঠোর বার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। আইনের শাসনই শেষ কথা। মহিলাদের মর্যাদা দিতে হবে। এবং এই শিক্ষা দেশের সবাই যেন তাদের পরিবারকে দেয়।
কেন্দ্রে ইউপিএ জমানার শেষ দিকে দিল্লিতে নির্ভয়া কাণ্ড ঘটেছিল। নির্ভয়াকে চলন্ত বাসের মধ্যে নির্মম ভাবে ধর্ষণ করেছিল পাঁচ জন। ওই ঘটনা নিয়ে গোটা দেশ যখন ক্ষোভে ফেটে পড়ছে তখন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তা রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করেছিলেন মোদী। চোদ্দ-র ভোটে বিজেপি স্লোগান তুলেছিল, “বহুত হো গায়া নারী পে বার/আবকি বার মোদী সরকার।”
কিন্তু উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া বা বিহারের মুজফ্ফরপুরের হোমে ধর্ষণের ঘটনা বা মধ্যপ্রদেশে নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনা সে সব স্লোগানের অন্তঃসারশূণ্যতাই বার বার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরাও এখন ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলছেন, “২০১৬ সালে দেশের মোটি ৩৮৯৪৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যার অর্থ প্রতি ৬ ঘন্টায় এক জন করে মহিলার ধর্ষণ হচ্ছে।”
উল্লেখযোগ্য হল, মধ্যপ্রদেশ বা বিহারের ঘটনার পর পরই বিজেপি বা প্রধানমন্ত্রীর তরফে কেউ কোনও মন্তব্য করছিলেন না। কিন্তু এখন গতিক মন্দ বুঝেই এ ব্যাপারে মোদী মুখ খুলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু ধর্ষণের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়া নয়, তিন তালাক প্রথা বন্ধ করায় কেন্দ্রের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে সার্বিক ভাবে মহিলাদের আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নের কথাও বলেন। তাঁর কথায়, স্বাধীনতার ৭১ বছর পর দেশের সর্বোচ্চ আদালতের তিন জন বিচারপতি এখন মহিলা। এটাও কম বড় কথা নয়।