দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৫ বছরে এত পরিষ্কার দেখা যায়নি যমুনা নদী। প্রায় ২ মাস ধরে চলা লকডাউনের জেরে যমুনা জল এখন এতই পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ যে একথা জানাচ্ছেন খোদ যমুনা অ্যাকশন প্ল্যানের কর্মকর্তা। বিশেষজ্ঞদের কথায় গত ২৫ বছরে যমুনার আবর্জনা পরিষ্কার করতে অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে ফল পাওয়া যায়নি কিছুই। কিন্তু এবার প্রায় ২৫ বছর পর একদম অন্য রূপে ধরা দিয়েছে যমুনা।
পরিযায়ী পাখিদের সঙ্গে এখন যমুনার পাড়ে ভিড় জমায় দেশের নানা নাম না জানা পাখিও। জল এতই স্বচ্ছ যে মাছেদের আনাগোনাও বোঝা যায় স্পষ্ট। এর একমাত্র কারণ লকডাউনের সময় কলকারখানা বন্ধ থাকায় নদীতে এসে সরাসরি রাসায়নিক বর্জ্য পড়ে না। পাশাপাশি মানুষও নদীতে আবর্জনা ফেলেন না। এই সবের জেরে দূষণের মাত্রা কমেছে অনেকটাই। এছাড়াও গত দু'মাস ধরে নিজের বায়োলজিক্যাল সিস্টেমের মাধ্যমে নিজেই নিজেকে পরিষ্কার রাখছে যমুনা নদী।
প্রায় ৩০ বছর ধরে যমুনা নদী নিয়ে কাজ করছেন ডক্টর রাজীব চৌহান। ২০০০ সাল থেকে যুক্ত রয়েছেন যমুনা অ্যাকশন প্ল্যানের সঙ্গে। ডক্টর চৌহানের কথায় এ যাবৎ যমুনার জল এত পরিষ্কার আর স্বচ্ছ দেখেননি তিনি। এছাড়াও তিনি বলেছেন যে এটাওয়াহ-র কাছে যমুনা এখন খুবই পরিষ্কার। অথচ আগে এই অঞ্চলেই যমুনার জলে মিশত চম্বল নদীর বয়ে আনা আবর্জনা। এমনটাই জানিয়েছেন, দেহরাদুনের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার এই আধিকারিক।
প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যমুনা নদী বয়ে গিয়েছে সাতটি রাজ্যের উপর দিয়ে। সব রাজ্যেই রয়েছে বিভিন্ন কারখানা। আর সেখান থেকে ক্রমাগত রাসায়নিক এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ এসে মেশে যমুনায়। বিশেষ করে হরিয়ানা, পানিপথ এবং দিল্লিতে রয়েছে অন্তত ৩০০টি শিল্পক্ষেত্র। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিল্লি, আগ্রা এবং মথুরা থেকে ৮০ শতাংশ দূষিত পদার্থ মেশে যমুনা নদীতে। দিল্লির পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের সমীক্ষা অনুসারে লকডাউনের আগের তুলনায় এখন যমুনা ৩৩ শতাংশ বেশি পরিষ্কার।