দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছে করোনাভাইরাস। ক্রমাগতই বাড়ছে কোভিড ১৯ আক্রান্তের সংখ্যা। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে মৃতের সংখ্যাও। ইতিমধ্যেই বেশকিছু করোনাভাইরাস হটস্পট চিহ্নিত করেছে সরকার। এবার এই প্রতিটি হটস্পটের বাসিন্দাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফাস্ট-ট্র্যাক কিটের সাহায্যে করার পরামর্শ দিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। এই পরামর্শ মেনে কী কাজ করা হবে তা অবশ্য পুরোটাই নির্ভর করছে সরকারের উপর।
এর পাশাপাশি আইসিএমআর দেশের সব করোনাভাইরাস হটস্পটের বাসিন্দাদের অ্যান্টবডি টেস্ট করার পরামর্শও দিয়েছে। মেডিক্যাল কাউন্সিলের এই নিয়ম অনুযায়ী দক্ষিণ দিল্লির নিজামুদ্দিনেও হবে এই অ্যান্টিবডি টেস্টিং। গত সপ্তাহেই এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দেশে ৫ লক্ষ অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট তৈরি হয়েছে।
এই অ্যান্টিবডি টেস্ট অনেকটা রক্ত পরীক্ষার মতই। মেডিক্যাল কাউন্সিল জানিয়েছে ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যেই এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়া সম্ভব। যাঁদের এই টেস্টের ফলে ‘অ্যান্টিবডি পজিটিভ’ রিপোর্ট আসবে তাঁদের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত আরও বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। মূলত গলা এবং নাকের সোয়াব টেস্ট হবে। এই পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে সময় লাগবে ৬ ঘণ্টা। আর যাঁদের ‘অ্যান্টিবডি নেগেটিভ’ রিপোর্ট আসবে তাঁদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেডিক্যাল কাউন্সিলের এই পরামর্শের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স।
এখনও পর্যন্ত মোট ৯টি করোনাভাইরাস হটস্পট চিহ্নিত করেছে ভারত সরকার। নিজামুদ্দিন ছাড়াও সেই তালিকায় রয়েছে দিল্লির দিলশাদ গার্ডেন, লাদাখ, পাঞ্জাবের এসবিএস নগর, রাজস্থানের ভিলওয়ারা, মহারাষ্ট্রের মুম্বই এবং পুণে আর কেরলের কাসারগোদ এবং পথানামিথিত্তা। এই ৯টি জায়গাতেই ফাস্ট ট্র্যাক কিটের সাহায্যে বাসিন্দাদের অ্যান্টিবডি টেস্ট করার পরামর্শ দিয়েছে মেডিক্যাল কাউন্সিল।
সারা দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৯৬৫। তাঁদের মধ্যে ৫১ জন বিদেশি নাগরিক। আইসোলেশনে রয়েছেন ১৭৬৪ জন। সংক্রমণে মৃত হয়েছে ৫০ জনের। এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫১ জন।