দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা অতিমহামারীতে যে শহরগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের শীর্ষে আছে মুম্বই। সেখানে এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে বানিয়ে ফেলা হল জাম্বো কোভিড হাসপাতাল। তাতে বেডের সংখ্যা ২১৭০। মুম্বইয়ের অদূরে মালাড অঞ্চলে ওই হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। তাতে ব্যবহৃত হয়েছে জার্মান প্রযুক্তি। ওই হাসপাতাল ফায়ার প্রুফ ও পরিবেশ বান্ধব। হাসপাতালের ৭০ শতাংশ বেডে থাকবে অক্সিজেন সরবরাহের সুবিধা। আইসোলেশন রুমে থাকবে ৩৮৪ টি বেড।
হাসপাতালে শিশুদের জন্য আইসিইউ বেড থাকবে ৪২ টি। ডায়ালিসিস ইউনিটে থাকবে ২০০ টি বেড। হাসপাতালের সর্বত্র ২৪ ঘণ্টা নজর রাখার জন্য থাকবে ২৪০ টি সিসিটিভি ক্যামেরা। গত সোমবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের উপস্থিতিতে হাসপাতালটি বিএমসিকে হস্তান্তর করেছে মুম্বই ডেভলপমেন্ট অথরিটি।
মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে টুইট করে বলা হয়েছে, "সোমবার বিকালে মুম্বই ডেভলপমেন্ট অথরিটি মালাডের জাম্বো কোভিড হাসপাতালটি বিএমসিকে হস্তান্তর করে। সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে উপস্থিত ছিলেন। ওই হাসপাতালে অক্সিজেন বেড, আইসিইউ, পেডিয়াট্রিক আইসিইউ, ডায়ালিসিস ও অন্যান্য অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে।"
দেশ জুড়ে কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভ ক্রমশ স্তিমিত হয়ে এলেও তৃতীয় ওয়েভ আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তার ওপরে কোভিডের ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টকে নিয়ে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। এই পরিস্থিতিতে চালু হচ্ছে মালাডের জাম্বো কোভিড হাসপাতাল। অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে মহারাষ্ট্রে ৬০ লক্ষ মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গিয়েছেন ১ লক্ষ ২১ হাজার মানুষ। রাজ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ইনফেকশন হয়েছে ৮৬৪৬ জনের। তাঁদের মধ্যে মারা গিয়েছেন ৮২৮ জন।
সোমবার সারা দেশে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ হাজার ৩৭ জন। মারা গিয়েছেন ৯০৭ জন। করোনার তৃতীয় ঢেউ যাতে সাংঘাতিক না হয়ে ওঠে, সেজন্য দেশ জুড়ে চলছে টিকাকরণ। দেশের কোভিড ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান এন কে অরোরা বলেছেন, আমাদের হাতে দেশের প্রত্যেককে ভ্যাকসিন দিয়ে করোনা প্রতিরোধী শক্তি গড়ে তোলার জন্য ৬-৮ মাস সময় থাকবে। সম্ভবত তার পরে আসবে তৃতীয় ঢেউ। আগামী দিনগুলিতে প্রতিদিন ১ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়াই আমাদের টার্গেট।
জাইডাস ক্যাডিলা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল প্রায় সম্পূর্ণ এবং জুলাইয়ের শেষে বা আগস্টে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন অরোরা। জাইডাস শীঘ্রই তাদের জাইকোভ-ডি ভ্যাকসিনের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের অনুমতি চেয়ে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেলের কাছে আবেদন করতে পারে। ভ্যাকসিনটি বাচ্চা থেকে বয়স্ক, সবাইকে দেওয়া যায় বলে তাদের দাবি।