
বর্ষার কলকাতা। ফাইল চিত্র।
শেষ আপডেট: 18 June 2024 09:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃষ্টির পূর্বাভাস প্রায় রোজই ব্যর্থ হচ্ছে রাজ্যে। আবহাওয়া দফতরের কথা মিলছে না মোটেই। এবার বর্ষা ঢোকার যে পূর্বাভাস দিচ্ছে আলিপুর, তা কতটা মেলে দেখার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রাজ্যবাসী। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দু'তিন দিনে বর্ষা ঢুকতে পারে দক্ষিণবঙ্গে। দিনভর আকাশ মেঘলা থাকবে, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই। পশ্চিমের জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হবে। অন্যদিকে, দুর্যোগের দুর্ভোগ বাড়বে উত্তরবঙ্গে। প্রবল বৃষ্টি চলবে আরও চার পাঁচ দিন।
জানা গেছে, সেই ৩১ মে থেকে ইসলামপুরে আটকে আছে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। এবার তৈরি হয়েছে অনুকূল পরিবেশ, তাই গতি পেতে পারে মৌসুমি বায়ু। দক্ষিণবঙ্গে ঢুকে পড়বে বর্ষা। প্রাক বর্ষার বৃষ্টি শুরু হবে শীঘ্রই, তার পরে ২০ জুন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমনই আশার বাণী শোনাল আবহাওয়া দফতর।
কলকাতায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৬২ থেকে ৯২ শতাংশ।
আজও কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গে থাকবে গরম ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় সকালে গরম অস্বস্তি থাকলেও বেলার দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা। দুপুরের পর থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতে। সঙ্গে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইবে।
ওদিকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি চলছেই, সে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। সিকিম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে প্রবল বৃষ্টির প্রভাব পড়বে। পার্বত্য ও সংলগ্ন জেলাগুলোতেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি চলবে আরও চার-পাঁচ দিন। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টি চলবে, সঙ্গে দমকা বাতাসের পূর্বাভাস। কয়েক জায়গায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া থাকবে।
মনে করা হচ্ছে, ব্যাপক বৃষ্টির প্রভাব পড়বে উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে। নদীগুলির জলস্তর অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। পার্বত্য এলাকায় ধস নামতে পারে, কমে যেতে পারে দৃশ্যমানতা। ট্রাফিক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে, ব্যাহত হতে পারে যানবাহন চলাচল। নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হতে পারে। শস্যের ক্ষতি হতে পারে। কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।