দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা অতিমহামারীর জন্য গুজরাতে মারুতি-সুজুকি কারখানায় দু’মাস বন্ধ ছিল উৎপাদন। সোমবার মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া বিবৃতি দিয়ে জানাল, ফের উৎপাদন শুরু হয়েছে। মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে গাড়ি উৎপাদন করে সুজুকি মোটর গুজরাত। করোনা সংকটের প্রেক্ষিতে সব নিয়ম মেনে সেই সংস্থা উৎপাদন শুরু করেছে ২৫ মে।
গত ২৫ মার্চ দেশ জুড়ে লকডাউন শুরু হয়। তার আগে, ২৩ মার্চ গুজরাতের হনসলপুর প্ল্যান্টে উৎপাদন বন্ধ করে মারুতি সুজুকি। ওই কারখানায় বালেনো এবং সুইফট, এই দুই মডেলের গাড়ি তৈরি হয়। প্রতি বছর কারখানায় পাঁচ লক্ষ গাড়ি তৈরি হতে পারে। এর আগে মানেসর ও গুরুগ্রামে উৎপাদন শুরু করেছে মারুতি সুজুকি। দু’টি কারখানাতেই বছরে তৈরি হয় সাড়ে ১৫ লক্ষ গাড়ি। গুরুগ্রামের কারখানায় এস ক্রস, ভিতারা ব্রেজা, ইগনিস ও সুপার ক্যারি লাইট কমার্শিয়াল গাড়ি তৈরি হয়। মানেসর প্ল্যান্টে তৈরি হয় অলটো, সুইফট, ডিজায়ার, এস প্রেসো, এরতিগা এবং বালেনো গাড়ি।
বিশ্ব জুড়ে করোনা সংকট শুরুর আগে সুজুকি মোটর কর্পোরেশন জানিয়েছিল, ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে তার মোট লাভ হয়েছে ১৩৬০ কোটি টাকা। গত বছর সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে তার মুনাফা হয়েছিল ২২৪০ কোটি টাকা।
সম্প্রতি গাড়ি শিল্পে কর কমেছে। তাতেই লাভ হয়েছে কোম্পানির। তাছাড়া অক্টোবর মাসে উৎসবের মরসুমে গাড়ির বিক্রি বেড়েছে। সুতরাং চলতি মাসে লাভের পরিমাণ বাড়তে পারে। কিন্তু তা থেকে বলা যাবে না যে, গাড়ি শিল্প সংকট থেকে বেরিয়ে এসেছে। মারুতি সুজুকির চেয়ারম্যান আর সি ভার্গব বলেন, তাঁদের সংস্থা ২০২০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চালিত ওয়াগনার আর হ্যাচব্যাক বিক্রি করতে পারবে না। কারণ সরকার ওই প্রকল্পে কোনও সহায়তা করেনি।
ভারতের গাড়ি বাজারে ছোট ও কম তেল লাগে এমন গাড়ি বেশি বিক্রি হয়। ওই ধরনের গাড়ি তৈরি করে মূলত মারুতি ও দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থা হুন্ডাই মোটর কর্পোরেশন। ভারতে গাড়ি শিল্পে মন্দার প্রধান কারণ হল গ্রামাঞ্চলে বিক্রি কমে যাওয়া। দেশের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ গ্রামে থাকে। সেখানে শ্যাম্পু থেকে বিস্কুট সবকিছুরই বিক্রি কমেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে মন্দার মুখে পড়েছে দেশের অর্থনীতি।