
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 9 December 2024 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৫ সালের এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছানোর টার্গেট রয়েছে রাজ্যের। সব মিলিয়ে ১ কোটি ৭৭ লক্ষ বাড়িতে জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার কথা। ইতিমধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাজ্যজুড়ে সেই কাজও চলছে। পিএইচই-র দাবি ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ বাড়িতে সংযোগ পৌঁছে গেছে।
সোমবার এ ব্যাপারে পূর্ত দফতরকে নিয়ে বৈঠকে ফের উষ্মা প্রকাশ করলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, "৯০ লক্ষ লোক কি সত্যি জল পাচ্ছে? এবার অন্য সংস্থাকে দিয়ে সার্ভে করান। পুলিশি নজরদারিতে এই সার্ভে হবে।"
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ যেন না ভাবে এটা তার জমিদারী। এটা মানুষের অধিকার। নাম কা ওয়াস্তে শুধু পানীয় জলের পাইপ লাইন বসালেই হবে না। প্রতিটি বাড়িতে যেন জল পৌঁছয়, সেটাও দেখতে হবে প্রশাসনকে। এটা প্রশাসনের দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে।
বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজের হাল হকিকত খতিয়ে দেখতে এদিন নবান্নে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, প্রতিটি জেলার জেলাশাসক-সহ প্রশাসনিক কর্তারা।
জেলায় জেলায় বেশ কিছু এলাকায় পাইপ লাইন পৌঁছলেও তা থেকে জল পড়ছে না বলে অভিযোগ। এ নিয়ে আগের বৈঠকে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এদিনের বৈঠকে মু্খ্যমন্ত্রী জানান, কাজে গাফিলতির অভিযোগে ৩৭৩টি সংস্থাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। একই কারণে ১১২টি সংস্থার চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। ২৩ জন আধিকারিককে শোকজ করা হয়েছে। রেল, ন্যাশানাল অথরিটি-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা অসহযোগিতা করছিল। এ ব্যাপারে ৬ তারিখ মুখ্যসচি বৈঠক করেছেন। আশা করছি এবার তাদের সহযোগিতা পাব।
পানীয় জলের পাইপ লাইন নিয়ে য়াওয়া সংক্রান্ত কাজে বাধা দানের অভিযোগে ৫০০টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ২১ হাজারের বেশি অভিযোগ এসেছে। যার মধ্যে ১১ হাজারের বেশি অভিযোগের ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
পুর্ত দফতরের তরফে এদিন বলা হয়, কিছু এলাকায় মানুষ পাইপ লাইন বসাতে দিচ্ছেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে বাধা আসছে সেখানে মানুষকে বোঝান। পাইপের লাইন তো জমির তলা দিয়ে যাবে, তার জন্য ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে। এটা মানুষকে বোঝাতে হবে। স্পষ্ট করে বোঝাতে হবে, এটা এলাকার মানুষের স্বার্থেই করা হচ্ছে। কেউ পাইপ লাইন বসানোর জন্য টাকাও নেবেন আবার ডিস্টার্ব করবেন, সেটা হবে না।