দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার জন্য আরও এক বার নতুন করে সরকারকে জোর দেবে নির্বাচন কমিশন। এই দফায়, আগামী নির্বাচনের প্রার্থীদের ভুয়ো খরচের হিসেব থেকে শুরু করে, প্রার্থী হওয়ায় যোগ্যতায় কোনও খামতি আছে কি না-- সে সবই খতিয়ে দেখে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সূত্রের খবর, সংসদের শীত অধিবেশনের শেষে, ৮ জানুয়ারি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের। ভোট চলাকালীন প্রার্থীদের ঘুষ দেওয়ার ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার কথাও আলোচিত হবে সেখানে। নির্বাচনের নিরাপত্তা বাড়ানো নিয়েও কথা হবে।
আইন মন্ত্রকের পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারজের নিয়োগ করেন। কিন্তু মুখ্য কমিশনারকে সরাতে গেলে তা সংসদের মধ্যে দিয়েই হতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশনারদের চাইলে রাষ্ট্রপতি নিজেই বদল করতে পারেন।
নির্বাচনী পদ্ধতির সমস্ত অসঙ্গতিগুলিই এবার মেরামত হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। যেমন, বর্তমানে এক জন সেনার স্ত্রী সার্ভিস ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হলেও, এক জন মহিলা সেনার স্বামী তা নন। অথট রাজ্যসভায় ইতিমধ্যেই প্রস্তাব করা হয়েছে, এই বিষয়টিতে বদল আনার, লিঙ্গবৈষম্য দূর করার।
এক ইসি কর্তার কথায়, "লোকসভায় প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। কিন্তু সংসদের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। আমরা চাই এই বিষয়ে খুব তাড়াতাড়ি নতুন নির্বাচনী আইন পাশ করাক সরকার।" এ ছাড়াও, ভুয়ো ডিক্ল্যারেশন দিয়ে ভোটে দাঁড়ানোর যে অভিযোগে ছ'মাসে জেল হওয়ার কথা, সেটিকে ভোট-অপরাধের আওতায় আনার কথা উঠেছে। এবং এই অপরাধের ভিত্তিতে কোনও প্রার্থীকে বাতিল করে দেওয়া যায়। "ছ'মাসের জেল মোটেই যথেষ্ট নয়।"-- বলেন ওই ইসি কর্তা।
নির্বাচনী প্রচারে খরচের বিষয়েও প্রার্থীদের উপরে রাশ টানার কথা বলেছে ইসি। জানিয়েছে, লোকসভা ভোটের প্রার্থীদের তুলনায় অর্ধেক হওয়া উচিত বিধানসভা ভোটের প্রার্থীদের খরচের মাত্রা। এটা রাজ্য থেকে রাজ্যও আলাদা হওয়া উচিত বলে জানিয়েছে কমিশন।
খুণ, পণ নেওয়া, ধর্ষণ-- এই জাতীয় অভিযোগ কখনও কারও বিরুদ্ধে থাকলে তা ভোটে না দাঁড়ানোর যথেষ্ট কারণ হিসেবে গণ্য করার কথাও বলেছে ইসি।