দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৯ সালের মার্চে মারুতি সুজুকি বিক্রি করেছিল ১ লক্ষ ৪৫ হাজার প্যাসেঞ্জার কার। ২০২০ সালের মার্চে বিক্রি করেছে ৭৬ হাজার ২৪০ টি। করোনাভাইরাস সংক্রমণে রীতিমতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাড়িশিল্প। দেশ জুড়ে লকডাউনের মধ্যে গত বুধবার মারুতি সুজুকি জানায়, ভারতের বাজারে গত মার্চে তাদের বিক্রি কমেছে ৪৭.৪ শতাংশ। এক বছর আগে মার্চে তাদের যতগুলি গাড়ি বিক্রি হয়েছিল, তার সঙ্গে এবছরের মার্চে বিক্রির সংখ্যার কোনও তুলনাই হয় না।
ওই কোম্পানির দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ছোট গাড়িগুলির মধ্যে অলটো এবং এসপ্রেসো টু-র বিক্রি কমেছে পাঁচ শতাংশ। গত বছরে মার্চ মাসে ওই ধরনের ১৬ হাজার ৮২৬ টি গাড়ি বিক্রি হয়েছিল। এবছর মার্চে বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার ৯৮৮ টি। ওয়াগনার, সুইফট, সেলেরিও, ইগনিস, বালেনো, ডিজায়ার, টুর এস গাড়ির বিক্রি কমেছে ৫১ শতাংশ। গত বছর মার্চে ওই ধরনের ‘কমপ্যাক্ট সেগমেন্ট ভেহিকল’ বিক্রি হয়েছিল ৮২ হাজার ৫৩২ টি। চলতি বছরের মার্চে বিক্রি হয়েছে ৪০ হাজার ৫১৯ টি। মাঝারি মাপের গাড়ি সিয়াজের বিক্রি কমেছে ৪৯.৩ শতাংশ। গত বছরের মার্চে ওই ধরনের গাড়ি বিক্রি হয়েছিল ৩৬৭২ টি। চলতি বছরের মার্চে বিক্রি হয়েছে ১৮৬৩ টি।
জিপসি, এরতিগা, এস ক্রস, ভিতারা ব্রেজ্জা, এক্স এল সিক্স জাতীয় ইউটিলিটি ভেহিকলের বিক্রি কমেছে ৫৩.৪ শতাংশ। ওমনি ও একো জাতীয় গাড়ির বিক্রি কমেছে ৬৩.৭ শতাংশ। লাইট কমার্শিয়াল ভেহিকল বলে পরিচিত সুপার ক্যারি গাড়ির বিক্রি কমেছে ৭১.৫ শতাংশ।
মারুতি সুজুকি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, “আমরা কর্মী, অংশীদার ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের কথা খেয়াল রাখি। কোভিড ১৯ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকার যে নির্দেশিকা জারি করছে, তা আমরা মেনে চলব।”
করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ভারতে মৃত্যু সংখ্যা বৃহস্পতিবার ৫০ ছুঁয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। আক্রান্তের সংখ্যাও বেশ খানিকটা বেড়ে গিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে ৩২৮ জনের শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ মিলেছে।
এর মধ্যেও আশার খবর হল এই যে, সারা দেশে ১৫১ জন করোনা আক্রান্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এখন আইসোলেশনে রয়েছেন ১৭৬৪ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার মধ্যে রয়েছেন বাংলার তিনজন।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী বুধবার সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে তামিলনাড়ুতে। দক্ষিণের এই রাজ্যটিতে ১৬০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। এরপর রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে ৮৬ জনের শরীরে মিলেছে কোভিড-১৯ পজিটিভ। মহারাষ্ট্রে মোট আক্রান্ত ৩৩৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪২ জন।