দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী দেশ জুড়ে লকডাউন জারি করায় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। সোমবার লোকসভায় এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। ঠিক সময়ে লকডাউন না করলে আরও ২৯ লক্ষ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতেন।
এক বিবৃতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "দেশ জুড়ে লকডাউন করা ছিল সাহসী সিদ্ধান্ত। এর ফলে সারা দেশ কোভিডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছে। আমাদের হিসাবমতো ঠিক সময়ে লকডাউন না করলে আরও ১৪ থেকে ২৯ লক্ষ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতেন। তাঁদের মধ্যে ৩৭ হাজার থেকে ৭৮ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটত।"
কিছুদিন আগেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ব্রাজিলকে পেরিয়ে গিয়েছে ভারত। যে দেশগুলিতে করোনা সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়েছে, তাদের মধ্যে ভারত আছে দু'নম্বরে। তার আগে রয়েছে কেবল আমেরিকা। সোমবার সকালে সরকার জানায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ৯২ হাজার ৭১ জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৪৮ লক্ষের বেশি। মারা গিয়েছেন ৭৯ হাজার ৭২২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১১৩৬ জনের।
সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হারে করোনা সংক্রমণ ঘটছে ভারতে। এখানে দৈনিক গড়ে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ওই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। হর্ষবর্ধনের দাবি, হু যে সংখ্যক টেস্টিং করতে বলেছে, ভারতে টেস্টিং-এর হার তার চেয়ে বেশি। ভারতে যথেষ্ট সংখ্যক অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে। বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ১ লক্ষের বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হতে এখনও অনেক দেরি আছে। বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করাই এখন প্রদ্ধান কাজ।"
এদিনই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়। তার মেয়াদ ১৮ দিন। প্রতিবার সংসদের অধিবেশন বসার আগে একটি সর্বদলীয় বৈঠক হয়। রবিবার সরকার জানিয়েছে, করোনা সংকটের মধ্যে সর্বদলীয় বৈঠক হওয়া সম্ভব নয়। এবার সংসদের অধিবেশন দৈনিক চার ঘণ্টা করে। সপ্তাহে সাতদিনই অধিবেশন চলবে। কেবল লিখিতভাবে প্রশ্ন করা যাবে। লিখিতভাবেই তার জবাব দেওয়া হবে।
এবার রাজ্যসভার অধিবেশন হবে সকাল ন'টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত। লোকসভা বসবে বিকাল তিনটে থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত। গত মার্চ থেকে বেশ কয়েকটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছে। সেগুলির বদলে এবার ১১ টি বিল পাশ করা হবে। তার মধ্যে আছে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বাণিজ্যে সহায়তা বিল, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিয়ন্ত্রক বিল, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য (সংশোধনী) বিল ইত্যদি।