দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের খবরের শিরোনামে আরজি কর। এবার বিনা চিকিৎসায ২৮ বছরের তরুণের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল।
মৃত তরুণের মায়ের আক্ষেপ, "দুর্ঘটনার পর যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু কোনও ডাক্তার নেই, চিকিৎসা হচ্ছে না। টানা ৩ ঘণ্টা ছটকাতে ছটকাতে বিনা চিকিৎসায় ছেলেটা মারা গেল।"
এ ব্যাপারে 'পরিষেবা সচল রেখে আন্দোলন চালু রাখা'র জন্য সোশ্যাল মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আর্জি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
অভিযোগ, সকাল ন'টা থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত পেশেন্ট পড়েছিল। তারপরও তাকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। কোন্ননগরে এক্সিডেন্ট হয় ওই যুবকের। দুই পায়ের উপর থেকে লরি চলে যায়। শ্রীরামপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে রেফার করা হয় কলকাতায়। কিন্তু আরজি করে নিয়ে আসার পরও পরিষেবা মেলেনি।
টুইটে কুণাল লেখেন, "হাসপাতালের তরফ থেকে বলা হয় ডাক্তার নেই, রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে। ততক্ষণে নাগাড়ে রক্তপাতে ঝিমিয়ে পড়ছিল রোগী। অবশেষে ১২ টার সময় মৃত্যু হয় তাঁর।" এরপরই পরিষেবা সচল রেখে আন্দোলন চালু রাখার আর্জি জানান কুণাল।
চোখের জল মুছতে মুছতে সন্তান হারা মা বলেন, "আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। দোষীদের কঠোরতম সাজা হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের মতো যারা গরিব মানুষ তাঁদের তো সরকারি হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। তাহলে কি এভাবে বিনা চিকিৎসায় মরতে হবে?"
মৃত তরুণের মা জানান, শ্রীরামপুরে প্রাথমিক চিকিৎসা করে, পা টা ব্যান্ডেজ করে আরজি করে স্থানান্তর করে। ৯টার মধ্যে নিয়ে চলে আসি। এমার্জেন্সিতে টিকিট করার পর পাঠিয়ে দিল আউটডোরে. সেখানে কোনও চিকিৎসক ছিলেন না।
প্রসঙ্গত, ৮ অগস্ট গভীর রাতে আরজি করের সেমিনার হলে ডাক্তারি ছাত্রীকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনা ঘটে। তারপর থেকেই আরজি কর-সহ সারা রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে কর্মবিরতিতে নেমেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সুপ্রিম কোর্ট থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আর্জির পরও আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড়। তাঁরা সাফ জানিয়েছেন, নো সেফটি, নো ডিউটি। একই সঙ্গে নির্যাতিতার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এমন অবস্থায় গরিব মানুষের কথা ভেবে চিকিৎসা পরিষেবা সচল রাখার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।