
শেষ আপডেট: 2 January 2024 13:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন কামদুনি কাণ্ডে নির্যাতিতার দাদা। তাঁর আবেদন ছিল, এই মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল থাকুক। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে সেই আবেদন মামলার শুনানি শুরু হয়। আবেদনকারীর সঙ্গে দিল্লি গেছেন কামদুনি কাণ্ডের অন্যতম প্রতিবাদী মুখ মৌসুমী কয়াল, টুম্পা কয়ালরা। মামলা গ্রহণ হতেই মৌসুমী 'বিচার পাওয়া'র আশায় বুক বাঁধছেন। সেইসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও ধন্যবাদ জানালেন তিনি।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে কামদুনির নির্যাতিতার দাদার আবেদনের মামলার শুনানি বেশিদূর এগোয়নি। শীর্ষ আদালত সবপক্ষকে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্য ও ৮ অভিযুক্তর থেকে জবাব তলব করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সেই হলফনামা জমা পড়ার পরেই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সেইসঙ্গে এই মামলা রাজ্য সরকারের দায়ের করা মামলার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
শুনানি শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মৌসুমী বলেন, 'আমরা খুবই খুশি। ১০ বছরের লড়াই। আশা করি, এবার সুবিচার পাব। প্রথম থেকেই আমাদের সঙ্গে ছিলেন অনেক সুবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ।' কামদুনি আন্দোলনে কোনও রাজনৈতিক রং লাগাতে নারাজ তিনি। মৌসুমীর কথায়, 'এখনও পর্যন্ত সব দলই সাহায্য করে যাচ্ছে, যাতে আমরা বিচার পাই। ব্যক্তিগত ভাবে সকলকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে, তিনি না থাকলে এতদূর আসতে পারতাম না। উকিল দেওয়ার ব্যাপারে তিনি অনেক সাহায্য করেছেন।'
এরপরই মৌসুমী বলেন, 'আমাদের আন্দোলন গরিবের আন্দোলন। রাজ্যে আমাদের মতো গরিবদের বিচার হয় না। টাকা নেই বলে বিচারও পায় না মানুষ। লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। যতদিন পর্যন্ত বিচার না পাচ্ছি লড়াই করব। আবার আশার আলো মনে জেগেছে।'
২০১৩ সালের কামদুনি গণধর্ষণ মামলায় ৬ অক্টোবর রায় ঘোষণা করে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, নিম্ন আদালতে যাদের ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেই সাজা রদ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যেসব অভিযুক্তদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিল নগর দায়রা আদালত, তাদের বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিয়েছিল বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ।
এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আগেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল রাজ্য সরকার। এবার কামদুনির নির্যাতিতার দাদার আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি শুরু হল সুপ্রিম কোর্টে।