
শেষ আপডেট: 9 January 2024 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলা, লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস সহ একাধিক হাই প্রোফাইল মামলার বিচারের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। সেই সংক্রান্ত তাঁর একাধিক পর্যবেক্ষণ বেশ শোরগোল ফেলেছে রাজ্য রাজনীতিতে। এমনকী, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর বাবা-মার সম্পত্তির নথি চেয়ে পাঠিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তাঁর স্বামী আইনজীবী প্রতাপ চন্দ্র দের বিরুদ্ধে অন্য একটি মামলার তদন্তে ভয় দেখিয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছিল। সিবিআই দিয়ে বিষয়টির তদন্ত করানোর আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। মঙ্গলবার তার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, সিবিআই নয়, রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সিআইডিই ঘটনার তদন্ত করবে।
প্রতাপচন্দ্র দের বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধা অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর বিপক্ষের আইনজীবী প্রতাপচন্দ্র মামলায় প্রভাব খাটাচ্ছেন, তাঁকে ভয় দেখাচ্ছেন। সম্পত্তি বিবাদ সংক্রান্ত মামলায় অন্যায়ভাবে তাঁকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত এবং উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বৃদ্ধা। সেই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের তরফেই সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালত এও জানিয়েছিল, এখনই প্রতাপচন্দ্র দের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা। তদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে হবে সুপ্রিম কোর্টে।
সিআইডি ইতিমধ্যেই এই মামলার তদন্তে ৩ বার প্রতাপচন্দ্র দে-কে ভবানীভবনে তলব করেছিল। দু'বার হাজিরা দিয়েছেন তিনি। আগামী ২২ ডিসেম্বর ফের হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রতাপচন্দ্র দে-র। তবে তার আগেই সিআইডির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি।
বিচারপতির স্বামীর অভিযোগ, যে মামলার তদন্তের জন্য তাঁকে তলব করা হচ্ছে, সে প্রসঙ্গে প্রশ্নও করা হচ্ছে না। পরিবর্তে তাঁর স্ত্রীর বিষয়ে নানা তথ্য জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। বিচারপতি সিনহার নামে জোর করে মিথ্যা বয়ান দেওয়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকী মিথ্যে বয়ান দেওয়ার জন্য চাপও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি প্রতাপচন্দ্র দে-র।
তাই বিচারপতি সিনহার স্বামী নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিবিআই চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর আর্জি খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। এর আগে প্রতাপচন্দ্র তাঁর অভিযোগ জানিয়ে প্রথমে কলকাতা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি লিখেছিলেন। তারপর একই বয়ানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ও কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালকে চিঠি দেন।
যদিও আগেই সিআইডি জানিয়েছিল, প্রতাপচন্দ্র দের অভিযোগ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন। গত ১ ও ১৬ ডিসেম্বর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল প্রতাপচন্দ্রকে। তবে দু'দিনই তিনি নির্ধারিত সময়ের পরে এসেছেন। তিনি যে দেরিতে আসবেন, তাও সিআইডিকে জানানো হয়নি। টানা জেরা করা হয়নি তাঁকে। বিরতি দেওয়া হয়েছিল।
সিআইডি আরও দাবি করেছে, পুরো জেরা প্রক্রিয়া অডিও-ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে। যে মামলার তদন্তের ভিত্তিতে প্রতাপচন্দ্রকে ডাকা হয়েছিল, সেই মামলা সংক্রান্তই প্রশ্ন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁকে চা- জল দেওয়া হয়েছে। ধূমপান করতে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। সিআইডি-র অভিযোগ, তাদের সংস্থাকে দুর্নাম এবং মর্যাদাহানি করতেই প্রতাপচন্দ্র দে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।