শেষ আপডেট: 27 December 2018 04:05
মুফতি মহম্মদ সোহেল
আনাস ইউনুস, বয়স ২৪ সোহেলর ডান হাত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এই ছাত্র। অ্যামিটি ইউনিভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিল আনাস। সোহেলের সংস্পর্শে আসে কয়েক মাস আগেই। এনআইএ আইজি অলোক মিত্তল জানাচ্ছেন, বিস্ফোরকে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক জিনিস,অ্যালার্ম ক্লক তৈরির দায়িত্বে ছিল এই পড়ুয়া। রসিদ জাফর রক ওরফে জাফর, বয়স ২৩ জাফরাবাদেরই ছেলে রসিদ কাপড়ের দোকানে কাজ করত। রসিদের মাধ্যমেই ১৩৪টি সিম কার্ড সংগ্রহ করা হয়। বন্ধুর মোবাইলের দোকান থেকে বিভিন্ন সময় সিম কার্ড নিয়েছে এই তরুণ। সৈয়দ ও রইজ এরা দুই ভাই। আমরোহার সইদাপুর ইম্মায় এদের বিভিন্ন মেশিনের যন্ত্রাংশের কারখানা় আছে। সেই কারখানা থেকেই গতকাল রকেট লঞ্চার উদ্ধার করে এনআইএ। এছাড়াও বিস্ফোরক তৈরির সামগ্রী, গান পাউডার-সহ প্রায় ২৫ কেজির জিনিস উদ্ধার হয় তাদের কারখানা থেকে। এর মধ্যে ছিল পাইপ বোমা তৈরির জিনিসও। দুজনেরই বয়স ৩০-এর মধ্যে। সোহেলের সঙ্গে এদের পরিচয় অনেক দিনের। জুবেইর মালিক ও জায়িদ মালিক- দিল্লি ইউনিভার্সিটির তৃতীয় বর্ষের ছাত্র জুবেইর। জাফরাবাদে ভাই জাইদ ও মা-কে নিয়ে থাকে। এনআইএ জানাচ্ছে, দুই ভাই তাদের মায়ের প্রায় সাত লক্ষ টাকার গয়না চুরি করে লখনউয়ে এক মহিলার কাছে বিক্রি করে। মনে করা হচ্ছে, এই গয়নাই জঙ্গি সংগঠনের ফান্ডিংয়ের কাজে লাগে। যে মহিলাকে গয়না বিক্রি করা হয় তাকেও আটক করেছে এনআইএ।
সাকিব ইফতেকার, বয়স ২৬
উত্তরপ্রদেশের বক্সারের জামা মসজিদের ইমাম সাকিব। সোহেলকে অস্ত্র পাচার করত বহুদিন ধরে। ভারতের বাইরে জঙ্গিদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল তার।
মহম্মদ ইরশাদ, বয়স ২৭
দিল্লির গাসি মেন্দু এলাকার বাসিন্দা। সিলামপুরে ইরশাদের নিজের ওষুধের দোকান আছে। ইরশাদও অস্ত্র সংগ্রহের কাজে সোহেলকে সাহায্য করত।
পড়ুন-দিল্লিতে বড় ধরনের আত্মঘাতী হামলার ছক, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র সহ গ্রেফতার দশ, উদ্ধার রকেট লঞ্চার, বিস্ফোরক ও প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র
এছাড়াও সংগঠনে রয়েছে বেশ কয়েকজন মহিলা জঙ্গি। যাদের আত্মঘাতী হামলার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল বলে এনআইএ সূত্রে খবর। বুধবার, দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ মিলে মোট ১৬ জায়গায় তল্লাশি চালায় এনআইএ। গোপন সূত্রে পাকা খবর পেয়েই আমরোহায় সোহেলের ডেরায় তল্লাশি চলে। সোহেল সহ গ্রেফতার করা হয় মোট ১০ জনকে। বৃহস্পতিবাই সোহেলকে এনআইএ-র বিশেষ আদালাতে পেশ করা হবে।