Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
অপরিচিতকেও চিনিয়ে দেবে মেটার ‘স্মার্ট গ্লাস’! অপরাধ বাড়তে পারে, বিপদ দেখছে মানবাধিকার সংগঠনগুলিপ্রথম পর্বে দেখা হবে না রাম-রাবণের! ‘রামায়ণ’ নিয়ে ভক্তদের মন ভেঙে দিলেন ‘টক্সিক’ যশনববর্ষ উদযাপনের মাঝেও মনখারাপ! দিনের শুরুটা কীভাবে কাটালেন ঋতুপর্ণা?গীতা ও চণ্ডীতে যেভাবে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন ভগবান৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল?

ভারত কি মুসলিম গণহত্যার দিকে এগোচ্ছে? প্রশ্ন টাইম ম্যাগাজিনের প্রবন্ধে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে 'ডিভাইডার ইন চিফ' বলে ব্যঙ্গ করেছিল বিখ্যাত 'টাইম' ম্যাগাজিন (Time Magazine)। অর্থাৎ ওই পত্রিকার মতে, মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে মোদীর জুড়ি নেই। এবার ওই ম্যাগাজিনের একটি কলা

ভারত কি মুসলিম গণহত্যার দিকে এগোচ্ছে? প্রশ্ন টাইম ম্যাগাজিনের প্রবন্ধে

শেষ আপডেট: 11 October 2021 13:25

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে 'ডিভাইডার ইন চিফ' বলে ব্যঙ্গ করেছিল বিখ্যাত 'টাইম' ম্যাগাজিন (Time Magazine)। অর্থাৎ ওই পত্রিকার মতে, মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে মোদীর জুড়ি নেই। এবার ওই ম্যাগাজিনের একটি কলাম আরও মারাত্মক। তাতে বড় শিরোনামে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, 'ভারত কি মুসলিম গণহত্যার দিকে এগোচ্ছে?' পুরো কলামে কটাক্ষ করা হয়েছে মোদীকে। প্রবন্ধ লেখকের বক্তব্য, ভারতের নেতৃত্ব গান্ধীজির আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। প্রবন্ধের শুরুতে বলা হয়েছে, ভারতীয় নেতারা বিদেশে গিয়ে ঘন ঘন গান্ধীর নাম নেন। অনেকের ধারণা, ভারত হল শান্তি ও প্রেমের দেশ। বর্তমান বিশ্বে যে ক'টি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক দেশ আছে, ভারত তার মধ্যে অন্যতম। দেড় বছর বাদে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিদেশযাত্রা করেছেন। তখন তিনি গান্ধী ও তাঁর মতাদর্শের কথা উল্লেখ করেছেন একাধিকবার। এরপরে কলামে মোদীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবন্ধকার লিখেছেন, ২৪ সেপ্টেম্বর মোদী হোয়াইট হাউসে যান। সেখানে বাইডেন বলেন, "গান্ধী যে অহিংসা, সম্মান ও সহিষ্ণুতার বার্তা দিয়ে গিয়েছেন, তা আগের চেয়ে বেশি বর্তমানে বেশি প্রাসঙ্গিক"। মোদী নিজেও রাষ্ট্রপুঞ্জের ভাষণে দুঃখ করে বলেন, "বিশ্ব জুড়ে পশ্চাৎপদ চিন্তা এবং সন্ত্রাসবাদের বিপদ দেখা যাচ্ছে।" ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের ওপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। নিজের মত প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি ভারত সম্পর্কে নতুন শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন, 'মাদার অব অল ডেমোক্র্যাসিজ', অর্থাৎ, সব গণতন্ত্রের জননী। টাইম ম্যাগাজিনে লেখা হয়েছে, কেউই জানে না ওই নতুন শব্দবন্ধের মানে কী? অন্তত যে ভারতীয় জননীর ১২ বছরের ছেলে বুলেটবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছে, তিনি তো জানেন না। এখানে অসমে বিজেপি সরকারের উচ্ছেদ অভিযানের কথা বলেছেন টাইম ম্যাগাজিনের প্রবন্ধকার। ওই অভিযানে এক ১২ বছরের কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। প্রবন্ধে লেখা হয়েছে, মোদী যখন আমেরিকায় অহিংসার কথা বলছেন, তখন ভারতের উত্তর-পূর্বে অসম প্রদেশে ওই কিশোর মারা পড়ে। মৃত কিশোরের মায়ের নাম হাসিনা বানু। টাইম ম্যাগাজিনে লেখা হয়েছে, তিনি ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে এক প্রত্যন্ত গ্রামে বাস করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ওরা আমার ছেলেকে খুন করেছে।" প্রবন্ধ লেখকের বক্তব্য, অসমে বাঙালি মুসলিমদের জমি কেড়ে নিয়ে সরকার তা হিন্দুদের দিতে চেয়েছিল। হিন্দুদের সরকার বলছে 'ভূমিপুত্র'। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে যাঁরা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, পুলিশ তাঁদের ওপরে গুলি চালায়। তখনই শেখ ফরিদ নামে ওই বালকটি মারা যায়। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেই সে পোস্ট অফিস থেকে নিজের ন্যাশনাল বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন কার্ড সংগ্রহ করেছিল। ওই কার্ড তার ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেয়। লেখক এরপর সরাসরি বলেছেন, এক বালক যেভাবে মারা গিয়েছে, তা ভারতের জাতীয় লজ্জা। পুলিশ অন্ধ আক্রোশে ফরিদের প্রতিবেশীদের লাঠিপেটা করেছে। পাঁচ হাজার লোকের বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। মইনুল হক নামে আর এক ব্যক্তি গুলিতে মারা গিয়েছেন। পুলিশরা তাঁর চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল। তাঁকে সহজেই গ্রেফতার করা যেতে পারত। কিন্তু ওই ব্যক্তিকে খুব কাছ থেকে গুলি করে মারা হয়েছে। ছবিতে দেখা গিয়েছে, মইনুল মারা যাওয়ার পরেও পুলিশ তার দেহের ওপরে লাঠি দিয়ে মারছে। পুলিশ টিমের সঙ্গে ছিল বিজয় বানিয়া নামে এক হিন্দু ফটোগ্রাফার। সে মৃতদেহের ওপরে লাফিয়েছে। ঘৃণা প্রকাশ করার জন্যই সে ওই কাজ করেছিল। এর পরে প্রবন্ধে লেখা হয়েছে, ভারতের ৮৪ শতাংশ মানুষ হিন্দু। সেদেশে জনসংখ্যার মাত্র ১৪ শতাংশ মুসলিম। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি আশ্চর্যজনক সাফল্যের সঙ্গে হিন্দুদের বুঝিয়েছে, তারা অত্যাচারিত হচ্ছে। ভুয়ো তথ্য, ঘৃণাপূর্ণ ভাষণ, পুরানো ধর্মীয় বিরোধ উস্কে তোলা, মিডিয়াকে নানাভাবে প্রভাবিত করা ইত্যাদি উপায়ে তারা মানুষকে বিশ্বাস করিয়েছে 'হিন্দু খতরেঁ মে হ্যায়'। এর ফলে বহু হিন্দু এখন মনে করেন, ভারতের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন মুসলিমরা। ২০১৪ সালে মোদী ক্ষমতায় আসার আগে বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করতেন, দেশের প্রধান সমস্যা হল বেকারত্ব, অর্থনৈতিক বিকাশের ধীর গতি ও দুর্নীতি। মোদী আশ্বাস দিয়েছিলেন, এই সমস্যাগুলির সমাধান করবেন। কিন্তু তাঁর আমলে অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়। বিজেপি মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ওপরে নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। বিজেপির সমালোচনা করে টাইম ম্যাগাজিনের প্রবন্ধকার লিখেছেন, তারা প্রচার করে, মুসলিমরা হিন্দু নারীদের প্রতি খারাপ দৃষ্টি দেয়। তারা ভবিষ্যতে সংখ্যায় হিন্দুদের চেয়ে বেড়ে যাবে। একসময় তারা ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে। ভারতে এখন 'লাভ জেহাদ', গোহত্যা এবং ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে আইন হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলি নিয়মিত মুসলিম হকার ও শ্রমিকদের আক্রমণ করছে। মুসলিম ব্যবসায়ীদের বয়কট করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রবন্ধের শেষে বলা হয়েছে, "ভারতে সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দুত্বের স্বঘোষিত রক্ষকরা প্রচুর ভিডিও পোস্ট করে। তাতে মুসলিমদের পিটিয়ে মারার আহ্বান জানানো হয়।" টাইম ম্যাগাজিনের বক্তব্য, মুসলিমদের মারার ঘটনা এখন এত ঘন ঘন ঘটে যে ভারতে তা খবর হিসাবেই গণ্য করা হয় না। সেদেশে কাউকে 'মুসলিমদের মতো দেখতে' হলেই মানুষ উত্তেজিত হতে পারে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদী নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন, যারা অশান্তি সৃষ্টি করছে, দেখলেই বোঝা যায় তারা মুসলিম।

```