দ্য ওয়াল ব্যুরো : বাগদাদে আমেরিকার ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেমানি। ইরাকের পার্লামেন্ট বলেছে, কোনও মার্কিন সেনাকে তাদের দেশে থাকতে দেওয়া হবে না। এরপর ইরানও জানাল, তারা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি মানবে না। আমেরিকার চাপে ওই চুক্তি করেছিল ইরান। এরপর তারা পরমাণু অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করবে। অন্যদিকে ইরাক থেকে যদি মার্কিন সেনাকে সত্যিই বিদায় নিতে হয়, তাহলে সেখানে ফিরে আসতে পারে ইসলামিক স্টেট। সব মিলিয়ে সোলেমানির মৃত্যুর পরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ইরানের সরকারি টিভি চ্যানেলে বিবৃতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট হাসান রোউহানি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী পরমাণু প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় আমরা নানা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতাম। পরমাণু জ্বালানি এনরিচমেন্ট করতে পারতাম না। কী পরিমাণে এনরিচড ইউরেনিয়াম আমাদের দেশে রাখা যাবে, তার ওপরেও কড়াকড়ি ছিল। কিন্তু “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আর কোনও কড়াকড়ি মেনে চলতে বাধ্য নয়।”
সোলেমানির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে ইরান। সেদেশের টিভিতে বলা হয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ পথে নেমে মৃত সেনাপ্রধানের জন্য শোক জানিয়েছেন। সৌদি আরবে আমেরিকার দূতাবাস থেকে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, মিসাইল ও ড্রোন হামলা হতে পারে। আপনারা সতর্ক থাকুন।
মার্কিন হামলায় সোলেমানির মৃত্যুর পরে পেন্টাগনের তরফে একটা বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, “জেনারেল সোলেমানি বহুদিন ধরে ইরাকে বসবাস করা মার্কিন নাগরিক ও কূটনীতিবিদদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিলেন। গত কয়েক মাসে এই এলাকায় হওয়া সবকটি হামলার দায়ও তাঁর।” এই হামলায় ইরাকের কাতাইব হিজবুল্লাহ নেতা আবু মেহদি আল-মুহানদিসও খতম হয়েছেন। এই মুহানদিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ইরাকে মার্কিন সেনার উপর রকেট হামলা চালিয়েছিলেন। গত শুক্রবার ইরাক ও সিরিয়াতে থাকা কাতাইব হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর কয়েকটি ক্যাম্পের উপর মার্কিন বায়ুসেনার হামলার পরে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায় এই গোষ্ঠীর সদস্যরা।
ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান আয়াতুল্লা আলি খোমেইনি সতর্ক করেছেন আমেরিকাকে। তিনি বলেছেন “যে শত্রুরা সোলেমানির রক্তে নিজেদের হাত নোংরা করল তাদের বিরুদ্ধে নৃশংস বদলা নেওয়া হবে। সোলেমানির কাজ ও পথ চলা থামবে না। সেই কাজ আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব।”