
শেষ আপডেট: 21 April 2019 18:30
বিভিন্ন জায়গায় বৌদ্ধ মূর্তি ধ্বংসে নাম জড়িয়েছে মৌলবাদী ইসলামি সংগঠন এনটিজে'র। এছাড়া এই সংগঠন সম্পর্কে এতদিন পর্যন্ত আর বিশেষ কিছুই জানা যায়নি। সূত্রের খবর, যে ২৪ জনকে এই বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই একটি চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। যদিও সরকারি ভাবে নির্দিষ্ট করে কোনও সংগঠনের নাম করা হয়নি। এই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাত থেকে সারা দেশ জুড়ে জারি হতে চলেছে জরুরি অবস্থা। আজ মধ্যরাতেই জরুরি অবস্থাকালীন আইন সরকারি ভাবে নথিবদ্ধ হতে চলেছে বলে জানানো হয়েছে রাষ্ট্রপতি সিরিসেনা'র মিডিয়া শাখার পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে যে, এই জরুরি অবস্থা সীমাবদ্ধ থাকবে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে প্রতিরোধ করার মধ্যে, বাকস্বাধীনতার নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক থাকবে না। সোমবার আঞ্চলিক সময় রাত আটটা থেকে মঙ্গলবার ভোর চারটে অবধি কার্ফু জারি করা হয়েছে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯০, যার মধ্যে রয়েছে বহু বিদেশি নাগরিক। আহতের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। চার্চ ও হোটেলে লাগাতার বিস্ফোরণের দায় এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন না নিলেও সারা দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি ও ধরপাকড়। প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কেন আগে থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা হয়নি তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি সিরিসেনা বিদেশ সফর বাতিল করে কলম্বো ফিরে এসেছেন এবং নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বসেছেন।
দেশ জুড়ে চিরুণী তল্লাশি চালাতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ মিলছে আরও বহু বোমার। রক্তস্নাত ইস্টার শনিবারের ঘটনা ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে ৩৭ বছর ধরে তামিল গেরিলাদের সঙ্গে চলা গৃহযুদ্ধের স্মৃতি, যখন কলম্বো সহ গোটা শ্রীলঙ্কার বাতাস ভারী হয়ে থাকত বারুদের গন্ধে। যদিও সাম্প্রতিক কালে সংখ্যাগুরু বৌদ্ধদের সঙ্গে চলা মুসলিমদের বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষে অনেকেই সিঁদুরে মেঘ দেখছিলেন। কিন্তু সেটা এত দ্রুত এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করবে সেটা সম্ভবত কেউই কল্পনা করেননি। যদিও দেশের প্রধান দুই ইসলামি সংগঠন এই বিস্ফোরণের ঘটনাকে তীব্র করে নিন্দা করে জানিয়েছেন দোষীদের চরমতম শাস্তি দেওয়া উচিত।